ফিফা আসিয়ান কাপে জয়ের মুখ দেখা হলো না বাংলাদেশের। গ্রুপ পর্বের প্রথম ম্যাচে মালয়েশিয়ার কাছে ৩-০ গোলে হারের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও সিঙ্গাপুরের কাছে ১-০ গোলে হারল লাল-সবুজের দল। ফলে টুর্নামেন্টে টানা দ্বিতীয় পরাজয় নিয়ে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের শঙ্কায় পড়েছে থমাস ডুলির শিষ্যরা।
জাকার্তার গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে বাংলাদেশের দাপট ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রথম ১৫ মিনিটে রাকিব হোসেন ও সুকি ইতুফুসা কয়েকবার সিঙ্গাপুরের রক্ষণে চাপ তৈরি করেন। ১৫ মিনিটে বক্সে ঢুকে রাকিব সতীর্থকে বল বাড়ানোর চেষ্টা করলেও সেখানে বাংলাদেশের কোনো খেলোয়াড় ছিলেন না।
৬ মিনিটেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন বাংলাদেশের শামিত সোম। জুলকিফলিকে টেনে ধরায় তাকে সতর্ক করেন রেফারি। ১৬ মিনিটে দ্রুত দুটি কর্নার আদায় করে সিঙ্গাপুর। দ্বিতীয় কর্নারের পর ইলহান ফান্দির প্রচেষ্টা সামলে নেন বাংলাদেশের গোলরক্ষক মেহেদী হাসান শ্রাবণ।
৩৩ মিনিটে বিপদ থেকে বাংলাদেশকে বাঁচান শ্রাবণ। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে নেওয়া সিঙ্গাপুরের ফ্রি-কিক দারুণভাবে ঠেকিয়ে দেন তিনি। পরে তারিক কাজী বিপদমুক্ত করেন বল।
তবে দুই মিনিট পরই গোল হজম করে বাংলাদেশ। ৩৫ মিনিটে বাম দিক থেকে আবদুল্লাহ নূরের বাড়ানো ক্রসে হেড করেন স্টেয়ার্ট। তার হেডে পরাস্ত হন শ্রাবণ। এগিয়ে যায় সিঙ্গাপুর।
গোলের পরপরই ব্যবধান দ্বিগুণ করার সুযোগ পায় সিঙ্গাপুর। ৩৭ মিনিটে ডান দিক থেকে নেওয়া তাদের একটি শট বাংলাদেশের ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। প্রথমার্ধে বাংলাদেশ বেশিরভাগ সময় বলের দখলে থাকলেও কোনো শট লক্ষ্যে রাখতে পারেনি।
বিপরীতে সিঙ্গাপুর পাঁচটি শট নেয়, যার চারটি ছিল লক্ষ্যে। দ্বিতীয়ার্ধে গোল পরিশোধের নেশায় বুঁদ হয়ে উঠে বাংলাদেশ। শুরুতেই আক্রমণে উঠে তারা। কিন্তু গোল মেলেনি। এরপর ম্যাচের শেষ মিনিট পর্যন্ত একের পর এক আক্রমণের চেষ্টা চালালেও সমতায়সূচক গোলটি আর করা হয়নি।
অন্যদিকে দ্বিতীয়ার্ধে আর গোলের দেখা পায়নি সিঙ্গাপুরও। ফলে ১-০ ব্যবধানেই শেষ হয় ম্যাচটি।
এই হারের ফলে ২ ম্যাচে কোনো পয়েন্ট সংগ্রহ না করা বাংলাদেশের অবস্থান পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে। ১ ম্যাচে ৩ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে অবস্থান করছে মালয়েশিয়া। সমান ৩ করে পয়েন্ট নিয়ে যথাক্রমে দুই ও তিন নম্বরে অবস্থান ইন্দোনেশিয়া ও সিঙ্গাপুরের।
টুর্নামেন্টে গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে ইন্দোনেশিয়ার মুখোমুখি হবে জামাল ভূঁইয়ার দল।
ডিসি/আপ্র/২৮/০৯/২০২৬