গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

ক্রয়াদেশ কমায় ছাঁটাই বৃদ্ধিতে পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:৩৯ পিএম, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২১:৫৫ এএম ২০২৬
ক্রয়াদেশ কমায় ছাঁটাই বৃদ্ধিতে পোশাকশিল্পের নারী শ্রমিকরা উদ্বিগ্ন
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ভোরের আলো ফুটতেই নারী শ্রমিকরা নির্দিষ্ট সময় কাজ, মাস শেষে বেতন এবং ওই আয় দিয়ে সংসারের খরচ, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা বাড়িতে থাকা স্বজনের প্রয়োজন মেটান। কিন্তু হঠাৎ করে জ্বালানি সংকটে ক্রয়াদেশ কমার প্রভাবে পোশাকশিল্পে উৎপাদন কমে গেলে কর্মসংস্থানে ছাঁটাইয়ের ঘটনার কারণে বৃদ্ধি করে উদ্বেগ। জীবনযাপনের হিসাবটাই যেন সবচেয়ে আগে অনিশ্চিত হয়ে পড়ে তাদের। সাম্প্রতিক গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটে দেশের নিট পোশাকশিল্পে ক্রয়াদেশ কমা ও শিপমেন্টে বিলম্বের যে চিত্র উঠে এসেছে, এর প্রভাব শেষ পর্যন্ত শ্রমিকদের কর্মসংস্থানেও পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ বিষয় নিয়েই এবারের নারী ও শিশু ডেস্ক: পাতার প্রধান ফিচার

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) ১৫ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত জরিপে দেখা যায়, তাদের জরিপে অংশ নেওয়া নিট পোশাক কারখানার প্রায় ৫৫ শতাংশের ক্রয়াদেশ আন্তর্জাতিক ক্রেতারা বাতিল করেছে বা কমিয়ে দিয়েছে। প্রায় ৭৮ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন আংশিক বন্ধ ছিল এবং ৮৭ শতাংশ সময়মতো শিপমেন্ট করতে পারেনি। জরিপটি বিকেএমইএর সদস্য কারখানার প্রায় ২০ শতাংশের তথ্যের ভিত্তিতে করা হয়। এই পরিস্থিতিতে নারী শ্রমিকদের উদ্বেগের কারণ আরও গভীর। কারণ তৈরি পোশাকশিল্পে নারীর অংশগ্রহণ দীর্ঘদিন ধরেই গুরুত্বপূর্ণ হলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সেই অংশ অনেকটা কমেছে।

দ্য ডেইলি স্টারের জুলাইয়ের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, একসময় পোশাকশিল্পের কর্মীদের প্রায় ৮০ শতাংশ নারী থাকলেও বর্তমানে তা ৫৫ শতাংশের নিচে নেমে এসেছে। অটোমেশন, মজুরি কাঠামোর পরিবর্তন, বয়স ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্যসহ নানা কারণ এর পেছনে রয়েছে। শিল্পে কর্মসংস্থানের চাপ যে শুধু আশঙ্কা নয়, বাস্তব ঘটনাতেও এর প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।

সেপ্টেম্বরে গাজীপুরের চারটি পোশাক কারখানায় ৬১৩ শ্রমিক ও কর্মীকে ছাঁটাই করার খবর প্রকাশ করেছে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে ব্যাংকিং সমস্যা ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘদিন কাজ ব্যাহত হওয়ার কথা জানানো হয়। ছাঁটাইয়ের তালিকায় নাম আসার পর শ্রমিকদের অনেকেই পরিবারের খরচ চালানো নিয়ে অনিশ্চয়তার কথা জানান। এর আগেও অর্ডার কমে যাওয়ার কারণে আশুলিয়ার একটি কারখানায় ৫৬৫ শ্রমিককে ছাঁটাই করা হয়।

কারখানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, ক্রয়াদেশ কমে যাওয়া ও আর্থিক সংকটের কারণে উৎপাদন কমাতে হয়েছে। শ্রমিকদের আইন অনুযায়ী পাওনা দেওয়ার কথা জানানো হলেও হঠাৎ কর্মসংস্থান হারানোর কারণে তাদের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয় উদ্বেগ। তবে বর্তমান পরিস্থিতিকে সরাসরি ‘জ্বালানি সংকটে কারখানা বন্ধ’ হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। কারণ ১৭ সেপ্টেম্বর পত্রিকায় দেওয়া বক্তব্যে বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক গ্যাস সংকটের কারণে এখন পর্যন্ত কোনো পোশাক কারখানা বন্ধ হয়নি। তার মতে, সংকটের প্রকৃত প্রভাব বুঝতে আরও সময় লাগবে। একই সঙ্গে তিনি জানান, গত ছয় মাসে ৩১টি কারখানা বন্ধ হলেও ৫৩টি নতুন কারখানা চালু হয়েছে, বন্ধ কারখানাগুলোতে প্রায় ১৪ হাজার শ্রমিক চাকরি হারালেও নতুন কারখানায় প্রায় ২৪ হাজার কর্মসংস্থানও হয়েছে। তবু সামগ্রিক পরিস্থিতি শ্রমিকদের জন্য স্বস্তিদায়ক নয়।

চাকরি হারানো নারী শ্রমিক ৩৫ বছর বয়সী নাসিমার মন্তব্য থেকে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন মেশিন অপারেটর হিসেবে কাজ করার পর ছাঁটাই হন। তার ভাষ্য অনুযায়ী একই কারখানায় তার বয়সী অনেক নারীও চাকরি হারিয়েছেন। আসলে নারী শ্রমিকদের জন্য চাকরি হারানোর অর্থ শুধু মাসিক আয় বন্ধ হওয়া নয়। অনেকের আয়ের ওপর নির্ভর করে তাদের সন্তানের পড়াশোনা, পরিবারের খাবার, বাড়িভাড়া কিংবা গ্রামে থাকা স্বজনের খরচও। ফলে উৎপাদন কমে গেলে প্রথম ধাক্কাটি পড়ে তাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রায়। নতুন চাকরি খোঁজার ক্ষেত্রেও অনেক সময় বয়স, অভিজ্ঞতা, যাতায়াতের খরচ এবং পারিবারিক দায়িত্ব বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘমেয়াদি আরেক পরিবর্তন।

বিভিন্ন পত্রিকার বিশ্লেষণ বলছে, পোশাকশিল্পে অটোমেশন ও দক্ষতার পরিবর্তনের কারণে নারীদের ঐতিহ্যগত কর্মসংস্থানের জায়গাগুলোও সংকুচিত হচ্ছে। ফলে জ্বালানি সংকট ও ক্রয়াদেশ কমার মতো সাময়িক চাপের সঙ্গে নারীদের জন্য শিল্পের কাঠামোগত পরিবর্তনের চাপও যুক্ত হচ্ছে। তাই বাংলাদেশের পোশাকশিল্পের ভবিষ্যৎ শুধু রপ্তানি ও ক্রয়াদেশের হিসাব নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে লাখো শ্রমিকের জীবন-জীবিকা; বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের ক্ষেত্রে কর্মসংস্থান ধরে রাখা, ছাঁটাই হলে আইন অনুযায়ী পাওনা নিশ্চিত করা, দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি এবং নতুন কর্মক্ষেত্রে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ানোও জরুরি।

কেএমএএ/আপ্র/২৫.০৯.২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

একের পর এক শিশু হত্যায় অভিভাবকসহ আতঙ্কিত দেশবাসী
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

একের পর এক শিশু হত্যায় অভিভাবকসহ আতঙ্কিত দেশবাসী

আজকের শিশু আগামী দিনের কাণ্ডারি। সেই শিশুরাই একের পর এক নিখোঁজ ও হত্যার শিকার হচ্ছে। অভিভাবকরা উদ্ব...

নানা বঞ্চনা ও প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরেন নারী শ্রমিকরা
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নানা বঞ্চনা ও প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফেরেন নারী শ্রমিকরা

স্বামীর স্বল্প আয়ে তিন ছেলেমেয়ে নিয়ে নারায়ণগঞ্জের বীণা রানী দাসের সংসারে টানাটানি লেগে থাকত। মাঝবয়সী...

নিজ থানায় প্রথম হয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ তামান্না
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিজ থানায় প্রথম হয়েও ভেরিফিকেশনে বাদ তামান্না

মেধার পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে চাকরির স্বপ্নটা যখন প্রায় হাতের মুঠোয়, তখনই যেন সবকিছু থমকে গেল তামান্না...

শিশু হঠাৎ নিখোঁজ হলে দ্রুত পরিকল্পিতভাবে অনুসন্ধান জরুরি
৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিশু হঠাৎ নিখোঁজ হলে দ্রুত পরিকল্পিতভাবে অনুসন্ধান জরুরি

একটি শিশু হঠাৎ হারিয়ে গেলে পুরো পরিবারের ওপর অন্ধকার নেমে আসে। কোথায় খুঁজবেন, কাকে জানাবেন, থানায় যা...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

বিএনপিকে চাঁদাবাজ বললে বিচার করবে জনগণ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারকে ঢালাওভাবে দোষারোপ এবং বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে চাঁদাবাজির অভিযোগ তুলে কেউ বক্তব্য দিয়ে থাকলে, তার বিচার জনগণ করবে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন- জনগণ বিচার করবে?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 15 মিনিট আগে