কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের ছবি ও ভিডিও তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতারণার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। অভিযোগ রয়েছে, নারী পরিচয়ে ইতালিপ্রবাসী এক তরুণের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলে তার ও তার মায়ের কাছ থেকে প্রায় সাত লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন ওই যুবক।
গ্রেফতার ব্যক্তির নাম তোফায়েল আলম টিটু। গত ২০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে পিবিআই ঢাকা জেলা। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিকাশ ও নগদ হিসাবের সংযোগসহ তিনটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) পিবিআই ঢাকা জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ।
পুলিশ সুপার জানান, ঢাকার কেরানীগঞ্জ মডেল থানার বারিশুর বাঘবাড়ি এলাকার বাসিন্দা শাহনাজ বেগমের (৪৬) ছেলে শাহাদাত খান (২২) ইতালিপ্রবাসী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘লেডি সোলজার/নারী যোদ্ধা’ নামের একটি পেজের মাধ্যমে তার সঙ্গে টিটুর পরিচয় হয়।
ওই পেজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি সেনাবাহিনীর নারী সদস্যের পোশাক পরা ছবি ও ভিডিও ব্যবহার করা হতো। অভিযোগ অনুযায়ী, টিটু নিজেকে নারী হিসেবে পরিচয় দিয়ে নারীর মতো কণ্ঠে শাহাদাতের সঙ্গে মুঠোফোন ও ইমোতে কথা বলতেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পিবিআই জানায়, সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে বিভিন্ন অজুহাতে শাহাদাতের কাছ থেকে টাকা চাইতে শুরু করেন টিটু। নিজের মায়ের অসুস্থতার কথা বলেও একাধিকবার টাকা নেন তিনি। এভাবে শাহাদাত ও তার মায়ের কাছ থেকে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রায় সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
প্রতারণার অভিযোগে প্রথমে আদালতে একটি নালিশি মামলা করেন শাহাদাতের মা শাহনাজ বেগম। মামলাটি তদন্তের সময় প্রতারণার বিভিন্ন তথ্য পায় পিবিআই।
পরে বিকাশ ও নগদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির অবস্থান শনাক্ত করা হয়। এসব তথ্যের ভিত্তিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর কেরানীগঞ্জ মডেল থানায় মামলা করা হয়। ১৩ সেপ্টেম্বর মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই ঢাকা জেলা।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. মনজুর রহমান বিভিন্ন তথ্য ও নথি বিশ্লেষণ করে তোফায়েল আলম টিটুর সম্পৃক্ততার তথ্য পান। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টা ৩৫ মিনিটের দিকে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর ২১ সেপ্টেম্বর টিটুকে আদালতে হাজির করা হলে আদালত তার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শেষে ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার এম এন মোর্শেদ বলেন, তোফায়েল আলম টিটু নারীর মতো কণ্ঠে কথা বলতে পারেন। ফেসবুক মেসেঞ্জারে শাহাদাতের সঙ্গে পরিচয়ের পর ইমোতে নারী কণ্ঠে কথা বলে সম্পর্ক বজায় রাখতেন তিনি।
তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু শাহাদাতের সঙ্গেই নয়, তার মায়ের সঙ্গেও যোগাযোগ করেছিলেন টিটু। বিভিন্ন সময়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
সংস্থাটির অপরাধসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে তোফায়েলের বিরুদ্ধে কিশোরগঞ্জের আদালতে আরো একটি নালিশি মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। ওই মামলার তদন্ত শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন বলেও জানিয়েছে পিবিআই।
এ ঘটনায় আরো কেউ জড়িত আছেন কি না এবং প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া অর্থের বিষয়ে অতিরিক্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
এসি/আপ্র/২৮/৯/২০২৬