এ টি এম সাজ্জাদ হোসেন সাবু, গোবিন্দগঞ্জ (গাইবান্ধা) প্রতিনিধি: গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে গাছের ডাল ভাঙাকে কেন্দ্র করে সেতু খাতুন (১১) নামের এক শিশুকে গাছের সঙ্গে হাত-পা বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় মেয়েকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তার বাবা ও মাকেও মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা পারভীন বেগম (৪০) ছয়জনের বিরুদ্ধে গোবিন্দগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) দায়ের করা অভিযোগে পারভীন বেগম উল্লেখ করেন, গত ২ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে উপজেলার সাপমারা ইউনিয়নের মদনপুর গ্রামে তাঁদের বাড়ির কাছে কর্তন করা একটি কড়ই গাছের স্তূপ থেকে ভুলবশত একটি ডাল, স্থানীয়ভাবে যা ‘হোগলা’ নামে পরিচিত, ভেঙে ফেলে শিশু সেতু। এ ঘটনায় রফিকুল ইসলাম শিশুটিকে বাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যান। পরে রশি দিয়ে গাছের সঙ্গে তার হাত-পা বেঁধে ডালপালা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
শিশুর চিৎকার শুনে মা পারভীন বেগম তাকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে আব্দুল করিমের নির্দেশে রফিকুল ইসলাম ও মর্জিনা বেগম লাঠি ও লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একপর্যায়ে রফিকুল ইসলাম তাঁর চুলের মুঠি ধরে এবং পরনের কাপড় টেনেহিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
স্ত্রী ও মেয়েকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে রেজাউল করিমকেও রফিকুল ইসলাম ও রিতা খাতুন লাঠি ও লোহার রড দিয়ে মারধর করে জখম করেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এ সময় হামলাকারীরা পারভীন বেগমের কান থেকে ৬০ হাজার টাকা মূল্যের চার আনা ওজনের এক জোড়া স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে অভিযুক্তরা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।
আহত রেজাউল করিম, পারভীন বেগম ও তাঁদের মেয়েকে পরে অটোভ্যানে করে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অভিযোগে অভিযুক্ত ছয়জন হলেন একই গ্রামের রফিকুল ইসলাম (৪৮), আব্দুল করিম (৫৫), মর্জিনা বেগম (৪০), জোবেদা বেগম (৪৫), রাহিমা খাতুন (১৯) ও রিতা খাতুন (২১)। তাঁরা ভুক্তভোগী পরিবারের আত্মীয়। পারিবারিক বিরোধ ও পূর্বশত্রুতার জেরে এ হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজ আলম বলেন, গাছের সঙ্গে বেঁধে শিশু ও তার বাবা-মাকে মারধরের বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দায়ীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/১৩/১০/২০২৬