খুলনা মহানগরীর রায়েরমহল এলাকায় নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে মহানগর তাঁতী দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ হুমায়ুন কবিরকে কুপিয়ে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। রোববার (১ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হুমায়ুন কবির রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ইল ক্যান্টিনে’ বসে ছিলেন। এ সময় একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র, রামদা ও চাপাতি নিয়ে সেখানে ঢুকে তাঁর ওপর হামলা চালায়। হামলাকারীরা তাঁকে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কোপানোর পাশাপাশি বুকে আঘাত করে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
হাসপাতালে উপস্থিত নিহতের ভাতিজা সৈয়দ দিদারুল আলম বিপ্লব অভিযোগ করেন, নগরীর ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের এক ছাত্রদল নেতা আরাফাত হোসেনের নেতৃত্বে কয়েকজন এ হামলা চালিয়েছেন। তাঁর দাবি, আরাফাত ও তাঁর সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হুমায়ুন কবিরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পুলিশও তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীদের পরিচয় বা হত্যার কারণ নিশ্চিত করতে পারেনি।
নিহত হুমায়ুন কবির সৈয়দ আনোয়ার আলীর ছেলে। তিনি রায়েরমহল বড় মসজিদের পেছনে নিজ বাসায় বসবাস করতেন। গত সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তিনি ১৪ নম্বর ওয়ার্ড থেকে কাউন্সিলর পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনেও একই ওয়ার্ড থেকে প্রার্থী হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
খুলনা মহানগর পুলিশের খালিশপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সৈয়দ শাহজাহান আলী জানান, ঘটনাস্থল খালিশপুর ও আড়ংঘাটা থানার সীমান্তবর্তী এলাকায় হলেও এটি আড়ংঘাটা থানা এলাকার মধ্যে পড়েছে। খালিশপুর থানার পুলিশও ঘটনাটি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়েছে। আড়ংঘাটা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আলিমুর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। মহানগর তাঁতী দলের আহ্বায়ক মো. আবু সাঈদও হুমায়ুন কবিরের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে খুলনায় ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ড ও সশস্ত্র হামলার ঘটনায় নগরীর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রথম আলোর ২৭ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত খুলনা মহানগরী ও জেলায় ৭১ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। মাদক কারবার, চাঁদাবাজি, আধিপত্য বিস্তার ও অপরাধী গোষ্ঠীর বিরোধকে এসব ঘটনার সম্ভাব্য কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ।
হুমায়ুন কবির হত্যার পেছনের কারণ এবং কারা এতে জড়িত, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ। তবে এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার বা হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/০১/১১/২০২৬