ভোলার মনপুরা উপজেলায় জেলের জালে ধরা পড়েছে বড় আকারের একটি ইলিশ, যা ঘিরে স্থানীয় মৎস্যঘাটে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ২ কেজি ৪০০ গ্রাম ওজনের মাছটি স্থানীয়দের কাছে ‘রাজা ইলিশ’ নামে পরিচিত। সংশ্লিষ্ট আড়তদারের দাবি, মাছটির বয়স প্রায় তিন বছর। পরে এটি ৮ হাজার ১০০ টাকায় বিক্রি হয়।
শনিবার (২০ জুন) ভোরে মনপুরা উপজেলার কলাতলীর চর এলাকার আবাসন খাল-সংলগ্ন মেঘনা নদীতে জেলে কামাল মাঝির জালে ইলিশটি ধরা পড়ে। পরে মাছটি আনা হয় মনপুরার রামনেওয়াজ মৎস্যঘাটে। বড় আকৃতির ইলিশটি ঘাটে পৌঁছানোর পর জেলে, ব্যবসায়ী ও স্থানীয় মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়।
মৎস্যঘাটের ব্যবসায়ী শাহাবুদ্দিন ফরাজি জানান, মাছটি তাঁর আড়তে আনার পর নিলামের মাধ্যমে বিক্রি করা হয়। তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাছটির ওজন ও দাম নিয়ে নানা তথ্য প্রচার করা হলেও প্রকৃত ওজন ২ কেজি ৪০০ গ্রাম এবং বিক্রয়মূল্য ৮ হাজার ১০০ টাকা। স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. রাজীব চৌধুরী মাছটি কিনে নিয়েছেন।
জেলে ও ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, বর্ষা মৌসুম ঘনিয়ে এলে মেঘনা মোহনায় ইলিশের চলাচল বাড়তে শুরু করে। তবে চলতি মৌসুমে এখনো আশানুরূপ ইলিশ পাচ্ছেন না জেলেরা। এ অবস্থায় মাঝেমধ্যে বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়লে তা তাদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করে। স্থানীয়ভাবে এ ধরনের বড় ইলিশ ‘রাজা ইলিশ’ নামেই বেশি পরিচিত। এবার ধরা পড়া মাছটি নিয়ে আগ্রহের আরেকটি কারণ হলো, এর পেট ছিল ডিমে পরিপূর্ণ।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, বড় আকারের ইলিশ ধরা পড়ার পেছনে জৈবিক ও মৌসুমি কারণ রয়েছে। তাঁর মতে, এ ধরনের মাছ সাধারণত বয়সে পরিণত হয়। ধরা পড়া ইলিশটির বয়স দুই বছরের বেশি, এমনকি তিন বছরের কাছাকাছিও হতে পারে। তিনি জানান, মাছটির পেটে ডিম ছিল এবং এটি ডিম ছাড়ার প্রস্তুতিতে নদীর ভেতরের দিকে উঠে আসা মাছ হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ইলিশ সারা বছরই ডিম দিতে সক্ষম হলেও ভাদ্র ও আশ্বিন মাসে বৃষ্টিপাত, নদীর পানির উচ্চতা এবং স্রোত বৃদ্ধি পাওয়ায় ডিম ছাড়ার প্রবণতা বেড়ে যায়।
মৎস্য কর্মকর্তার মতে, বড় আকারের ইলিশ পাওয়ার পেছনে সরকারি সংরক্ষণ কার্যক্রমেরও ইতিবাচক প্রভাব রয়েছে। জাটকা ও মা ইলিশ রক্ষায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনার ফলে কিছু মাছ পূর্ণাঙ্গ আকারে বেড়ে ওঠার সুযোগ পাচ্ছে। তবে ছোট আকারের মাছ নির্বিচারে আহরণ বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় আকারের ইলিশ পাওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
রামনেওয়াজের বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেন বলেন, মনপুরার নদীপাড়ের মানুষের কাছে বড় ইলিশ ধরা পড়া শুধু ব্যবসা বা বাজারদরের বিষয় নয়, এটি এক ধরনের আবেগেরও নাম। ভোরের নদী, জেলের জাল, ঘাটের হাঁকডাক আর নিলামের ভিড়—সব মিলিয়ে একটি বড় ইলিশ কিছু সময়ের জন্য পুরো ঘাটকে উৎসবমুখর করে তোলে। শনিবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি।
সানা/আপ্র/২১/৬/২০২৬