টানা সরকারি ছুটি ও সাপ্তাহিক বন্ধকে ঘিরে শিল্পাঞ্চল গাজীপুর থেকে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় ফিরতে শুরু করেছেন হাজারো কর্মজীবী মানুষ। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল ও ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে তীব্র যানবাহন ও যাত্রীর চাপ সৃষ্টি হয়েছে। একই সঙ্গে অতিরিক্ত বাসভাড়া আদায়ের অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন ঘরমুখী যাত্রীরা।
বুধবার (৫ আগস্ট) সকালে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা ত্রিমোড় এবং ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের চান্দনা চৌরাস্তা ও মাওনা চৌরাস্তা এলাকায় যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়।
শিল্প পুলিশ জানায়, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উপলক্ষে ঘোষিত সরকারি ছুটি এবং সাপ্তাহিক বন্ধ মিলিয়ে টানা তিন দিনের অবকাশে অধিকাংশ শিল্পকারখানার শ্রমিক ও কর্মজীবী মানুষ নিজ নিজ বাড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
উত্তরাঞ্চলের ২৬ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চন্দ্রা ত্রিমোড়ে ভোর থেকেই যাত্রীর চাপ বাড়তে থাকে। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মহাসড়কের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়। পরিবার নিয়ে গ্রামে ফিরতে গিয়ে অনেক যাত্রীকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
যাত্রীদের অভিযোগ, বাড়তি চাহিদার সুযোগে অনেক পরিবহন নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে বেশি টাকা আদায় করছে। কয়েকটি বাস কাউন্টারে টিকিট সংকটের অভিযোগও পাওয়া গেছে।
যাত্রী জেরিন আক্তার বলেন, তিন দিনের ছুটি পেয়ে পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে বাড়ি যাচ্ছেন। তবে বাসে উঠতে গিয়ে ৭০০ টাকার ভাড়া এক হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে।
আরেক যাত্রী ইকলাছুর রহমান অভিযোগ করেন, উত্তরবঙ্গগামী যাত্রীদের কাছ থেকে স্বাভাবিক সময়ের ৫০০ টাকার ভাড়া বাড়িয়ে ৮০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়া হচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে চন্দ্রা এলাকার একটি পরিবহন কাউন্টারের মালিক ইলিয়াস হোসেন বলেন, পরিবহনের তুলনায় যাত্রীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় সংকট তৈরি হয়েছে। যাত্রীচাপ বেড়ে গেলে সব গাড়ি কাউন্টারের নিয়ন্ত্রণে থাকে না, ফলে ভাড়াও বেড়ে যায়।
এদিকে হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তারা কাজ করছে। গাজীপুর অঞ্চলের নাওজোড় হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাফর হোসেন বলেন, ভোর থেকেই যাত্রীদের চাপ বেড়েছে। সড়কের শৃঙ্খলা বজায় রাখার পাশাপাশি অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগেও পরিবহন সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।
এসি/আপ্র/০৫/০৮/২০২৬