একেএম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম অফিস: চট্টগ্রাম বন্দরে কনটেইনার জাহাজ থেকে দ্রুত ও নিরাপদে পণ্য ওঠানামার জন্য আনা চারটি আধুনিক কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন আগামী মাসের মাঝামাঝি থেকে পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করবে।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, চীনের প্রতিষ্ঠান স্যানি মেরিন হেভি ইন্ডাস্ট্রি থেকে ৩০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে এই চারটি ক্রেন সংগ্রহ করা হয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি এসব ক্রেন চট্টগ্রাম বন্দরের পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনালের (পিসিটি) জন্য আনা হয়।
গত শুক্রবার (১৯ জুন) সন্ধ্যায় ক্রেন বহনকারী বিশেষায়িত জাহাজ এমভি ল্যান হাই হং ইউন পিসিটি জেটিতে ভেড়ে। আগামী জুলাই মাসের মাঝামাঝি থেকে এগুলো দিয়ে কনটেইনার ওঠানামার কাজ শুরু হবে বলে জানিয়েছে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ও চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি)-তে মোট ১৮টি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন চালু রয়েছে। এর মধ্যে এনসিটিতে ১৪টি এবং সিসিটিতে ৪টি ক্রেন রয়েছে।
পিসিটির ভৌগোলিক অবস্থান ও উচ্চতার সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় ক্রেনগুলো কাস্টমাইজডভাবে তৈরি করা হয়েছে। বিশেষ করে বিমানবন্দর ও বিমানবাহিনীর কার্যক্রমের কারণে একটি জেটিতে উচ্চতার সীমাবদ্ধতা থাকায় সেখানে ক্রেন স্থাপন সম্ভব হয়নি। অন্য জেটিগুলোর ক্ষেত্রেও উচ্চতার সীমাবদ্ধতা থাকায় নতুন ক্রেনগুলোর উচ্চতা ৪২ ফুট নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন্দর ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চারটি কিউ গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহে চুক্তি হয়। এক বছরের বেশি সময় নির্মাণ শেষে এগুলো বন্দরে এসে পৌঁছায়।
নতুন চারটি ক্রেন চালু হলে পিসিটির বার্ষিক কনটেইনার হ্যান্ডলিং সক্ষমতা বর্তমান ২ লাখ ৫০ হাজার টিইইউএস থেকে বেড়ে প্রায় ৬ লাখ টিইইউএসে উন্নীত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে জাহাজের অপেক্ষার সময় কমবে এবং লজিস্টিক ব্যয়ও হ্রাস পাবে।
এর আগে পিসিটির জন্য ১৪টি রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি ক্রেন সংগ্রহে ২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করা হয়। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে পিসিটিতে ১ লাখ ৪৩ হাজার টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে।
সানা/আপ্র/২১/৬/২০২৬