কঙ্গোর উত্তরপূর্বাঞ্চলে বাস্তুচ্যুত বেসামরিক নাগরিকদের একটি শিবিরে মে মাসের শুরু থেকে অন্তত ৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শিবির কর্তৃপক্ষ বলছে, সেখানে এত বেশি মৃত্যুর ঘটনা আগে কখনও দেখা যায়নি। মৃতদের মধ্যে কয়েকজনের শরীরে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হওয়ায় প্রাণঘাতী এই রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
কঙ্গোর ইবোলা প্রাদুর্ভাবের উপকেন্দ্র বুনিয়া শহরের কিগোনজে শিবিরে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রোগী ও তাদের স্বজনরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে অস্বীকৃতি জানিয়ে আসছিলেন। ফলে সব মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে শিবিরের মুখপাত্র এবং ক্যাথলিক সহায়তা সংস্থা কারিতাস জানিয়েছে, মৃতদের সবার মধ্যেই মাথাব্যথা, জ্বর ও বমির মতো ইবোলার সাধারণ উপসর্গ ছিল।
কিগোনজে শিবিরের মুখপাত্র দেসিরে গ্রোদিয়া বাপি বলেন, আগে মানুষ এভাবে হঠাৎ মারা যেত না।
১৫ হাজারের বেশি মানুষের আবাস এই শিবিরে মৃত্যুর এ ঘটনা কঙ্গোর পূর্বাঞ্চলের ৫০ লাখেরও বেশি বাস্তুচ্যুত মানুষের মধ্যে অলক্ষ্যে ইবোলা ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থার অভাব এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতি স্থানীয়দের অনীহা পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলছে।
সাহায্যকর্মীদের ভাষ্য, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনসহ প্রধান দাতারা পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন খাতে অর্থায়ন কমিয়ে দেওয়ায় কঙ্গোর মানুষ ইবোলাসহ বিভিন্ন সংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে পড়ছেন। ইবোলা মানুষের শরীরের তরল ও বর্জ্যের মাধ্যমে ছড়ায় বলে এ ক্ষেত্রে পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় টয়লেট ও হাত ধোয়ার স্টেশন নির্মাণে বরাদ্দ তহবিল ২০২৪ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি কমে প্রায় তিন কোটি ৮০ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। চলতি বছরে প্রয়োজনীয় আট কোটি ডলারের বিপরীতে পাওয়া গেছে মাত্র ২১ শতাংশ অর্থ।
শিবিরজুড়ে মানবিক সংকট: যুদ্ধ থেকে প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসা মানুষের জন্য কঙ্গোতে শত শত শিবির রয়েছে। এর মধ্যে কিগোনজে শিবিরের অবস্থা সবচেয়ে উদ্বেগজনকগুলোর একটি।
এখানে এক মিটারেরও কম দূরত্বে স্থাপিত প্লাস্টিকের তাঁবুতে গাদাগাদি করে বড় পরিবারগুলো বসবাস করছে। শিশুরা কাদার মধ্যে খালি পায়ে চলাফেরা করছে। শিবিরে পর্যাপ্ত টয়লেট নেই, আর যেগুলো আছে সেগুলোও প্রায়ই উপচে পড়ে।
মুখপাত্র গ্রোদিয়া জানান, ল্যাট্রিনগুলো খুব দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় এবং মানুষকে কোনো ধরনের সুরক্ষা ছাড়াই খালি হাতে সেগুলো পরিষ্কার করতে হয়।
তহবিল সংকটের কারণে সহায়তা সংস্থা মার্সি ক্রপসের কার্যক্রমও ব্যাপকভাবে সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালে সংস্থাটি এক লাখ ২৫ হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য ৪০০টি গণশৌচাগার ও ৮২টি পানির কল সরবরাহ করলেও চলতি বছরে তারা মাত্র ১৯ হাজার মানুষকে সেবা দিতে পারছে। তাও কোনো গণশৌচাগার ছাড়াই, মাত্র ছয়টি পানির কলের মাধ্যমে।
কঙ্গোর পানি, স্বাস্থ্যবিধি ও স্যানিটেশন খাতে এতদিন সবচেয়ে বড় অর্থদাতা ছিল ওয়াশিংটন। রোগ বিস্তার রোধে ২০২৪ সালেও তারা ছয় কোটি ডলারের বেশি সহায়তা দিয়েছিল।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা জীবনরক্ষাকারী জরুরি মানবিক সহায়তায় বেশি গুরুত্ব দিতে চায়।
একই সঙ্গে ইবোলা মোকাবিলায় সরাসরি তিন কোটি ৭৫ লাখ ডলারের বেশি সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ওয়াশিংটন। সূত্র: রয়টার্স
সানা/ডিসি/আপ্র/২১/৬/২০২৬