দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া সরকারবিরোধী টানা বিক্ষোভে অচলাবস্থার মুখে পড়ায় দেশজুড়ে জরুরি অবস্থা জারি করেছে প্রশাসন। গত শনিবার (২০ জুন) দেশটির প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ ৯০ দিনের জন্য এই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেনাবাহিনী মোতায়েনের নির্দেশ দেন।
প্রেসিডেন্টের নির্দেশের পরপরই এল আল্টো শহরে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের উপস্থিতি দেখা যায়। সড়কে স্থাপিত বিক্ষোভকারীদের প্রতিবন্ধকতা সরাতে বুলডোজার ব্যবহার শুরু করা হয় বলে জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিকরা।
রক্ষণশীল সরকারের বিরুদ্ধে চলমান এই আন্দোলন ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে চলছে। শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী এবং কোকো চাষিরা দেশটির বিভিন্ন শহরে অবরোধ ও বিক্ষোভ চালিয়ে যাচ্ছেন।
এর ফলে বলিভিয়ার প্রধান শহরগুলোতে খাদ্য, ওষুধ ও জ্বালানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিতে কয়েক শ কোটি ডলারের ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, গত দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ–সমাজতান্ত্রিক সরকার হিসেবে ক্ষমতায় থাকা রদ্রিগো পাজের সরকার এখন অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট পাজ বলেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি জানান, জরুরি অবস্থার সময় যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ আইনত নিষিদ্ধ থাকবে এবং দেশের অভ্যন্তরে সামরিক বাহিনী সক্রিয় থাকবে।
তিনি বলেন, “জরুরি অবস্থার উদ্দেশ্য মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাপন বন্ধ করা নয়, বরং তা পুনরুদ্ধার করা।”
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এল আল্টো শহরে সেনা ও পুলিশের টহল শুরু হয়। বিক্ষোভকারীদের সরাতে বুলডোজার ব্যবহার করা হয় এবং কিছু স্থানে স্থানীয় বাসিন্দারা সেনা-পুলিশকে হাততালি দিয়ে স্বাগত জানান। এক দোকানদার বলেন, দীর্ঘদিনের অবরোধের কারণে জীবনযাত্রা প্রায় অচল হয়ে পড়েছিল।
রাজধানী লাপাজের পাশেও বিক্ষোভ ও উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। সেখানে প্রেসিডেন্ট প্রাসাদ ও গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনায় সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।
নির্বাচনের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে পড়া প্রেসিডেন্ট পাজ বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি সম্প্রতি একটি শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে চুক্তিতেও পৌঁছান, যেখানে রাষ্ট্রীয় সম্পদ বেসরকারিকরণ না করার আশ্বাস দেওয়া হয়।
তবে সব পক্ষ এতে সন্তুষ্ট নয়। আদিবাসী গোষ্ঠীগুলো এখনো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে এবং অন্তত ৪০টি স্থানে সড়ক অবরোধ বজায় রয়েছে।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, প্রেসিডেন্ট পাজকে অর্থনৈতিক সংস্কার নীতি থেকে সরে আসতে হবে এবং প্রয়োজনে পদত্যাগ করতে হবে।
এক আদিবাসী নেতা বলেন, “আমরা চাই তিনি ক্ষমতা ছেড়ে দিন।” সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
সানা/ডিসি/আপ্র/২১/৬/২০২৬