২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে ব্যক্তিশ্রেণির আয়কর কাঠামোয় নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের ওপর করের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি বাড়ছে বলে মনে করছে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)।
রোববার (২১ জুন) রাজধানীর গুলশানের লেকশোর হোটেলে বাজেট পর্যালোচনা নিয়ে আয়োজিত এক সংলাপে এ তথ্য তুলে ধরা হয়।
সিপিডির পক্ষ থেকে জানানো হয়, নতুন কর কাঠামো অনুযায়ী যাদের বার্ষিক করযোগ্য আয় ৬ থেকে ১৫ লাখ টাকা, তাদের করদায় প্রায় সাড়ে ১২ শতাংশ থেকে সাড়ে ১৬ দশমিক ৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। তুলনামূলকভাবে উচ্চ আয়ের করদাতাদের ক্ষেত্রে এই বৃদ্ধির হার কম।
সংস্থাটি আরো বলেছে, ৩০ লাখ টাকার বেশি আয়কারীদের করের বোঝা বৃদ্ধির হার প্রায় ৭ দশমিক ৬ শতাংশের মধ্যে সীমিত থাকতে পারে। ফলে কর কাঠামোয় বৈষম্য তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা মন্তব্য করে।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, আয় বৃদ্ধির অনুপাতে করের চাপ বিশ্লেষণ করলে নিম্ন ও মধ্য আয়ের শ্রেণির ওপর চাপ বেশি পড়ছে, যা সামাজিক সমতা ও ন্যায্যতার প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এছাড়া সংলাপে কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সিপিডির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৮ মাসে ১ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্য থাকলেও বাজেট প্রস্তাবে তার সুস্পষ্ট প্রতিফলন নেই।
তিনি আরো বলেন, শ্রম, প্রবাসী কল্যাণ, শিল্প ও বাণিজ্য-এই চার খাতের বাজেট বরাদ্দ মোট ব্যয়ের তুলনায় কমছে বা স্থবির রয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি বড় কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে আছে।
মুদ্রাস্ফীতি নিয়েও উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, বাজেটে মূল্যস্ফীতি ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হলেও বিদায়ী অর্থবছরের মে পর্যন্ত গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৬৩ শতাংশ। খাদ্য ও জ্বালানি সরবরাহ এবং সঠিক মুদ্রানীতি ছাড়া এ লক্ষ্য অর্জন কঠিন হবে।
ফাহমিদা খাতুন আরো বলেন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো ইতিবাচক হলেও এর কার্যকর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অনুষ্ঠানে বাজেট বিষয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষক ও খাতসংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সানা/আপ্র/২১/৬/২০২৬