জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভাষণের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে বিক্ষোভ থেকে অস্কারজয়ী অভিনেত্রী সুসান সারানডন, এমিজয়ী অভিনেত্রী হান্না আইনবাইন্ডারসহ অন্তত ৩০ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
রয়টার্স জানায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ সদর দপ্তরের বাইরে বিশ্বনেতাদের বার্ষিক সম্মেলন চলাকালে সড়ক অবরোধ করে এই বিক্ষোভ হয়। ফিলিস্তিনপন্থি ইহুদি অধিকার সংগঠন জুইশ ভয়েস ফর পিসের আহ্বানে আয়োজিত কর্মসূচিতে সাংস্কৃতিক কর্মী, রাজনীতিক ও বিভিন্ন আন্দোলনের কর্মীরা অংশ নেন।
গ্রেফতারদের মধ্যে ডেমোক্রেটিক পার্টির কংগ্রেস প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়ে এবং নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্য চি ওসে-ও রয়েছেন।
একই ধরনের সাদা টি-শার্ট পরা প্রায় ২০০ বিক্ষোভকারী জাতিসংঘ ভবনের আশপাশের সড়কে জড়ো হন। তাদের টি-শার্টে লেখা ছিল ‘বোমার পেছনে নয়, মানুষের পেছনে অর্থ ঢালুন’, ‘যুদ্ধ নয়’ এবং ‘ফিলিস্তিনের মুক্তি চাই’-এর মতো বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান।
বিক্ষোভের কারণে জাতিসংঘ কমপ্লেক্সের আশপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে লাউডস্পিকারে বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় পুলিশ। অনেকে ফুটপাতে সরে গেলেও একটি বড় অংশ রাস্তায় বসে নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।
পরে পুলিশ তাদের ঘিরে ফেলে এবং একে একে হাত পেছনে বেঁধে পুলিশের বাসে তুলে নেয়। গ্রেফতারের সময়ও বিক্ষোভকারীরা নেতানিয়াহুবিরোধী স্লোগান দিতে থাকেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মানিজে মোরাদিয়ান বলেন, গাজায় যা ঘটছে এবং নেতানিয়াহু যেভাবে জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মঞ্চ ব্যবহার করে তার সামরিক অভিযানের পক্ষে বক্তব্য দিচ্ছেন, তার বিরুদ্ধে কথা বলা নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করেন তারা।
‘ডেড ম্যান ওয়াকিং’ চলচ্চিত্রে অভিনয়ের জন্য অস্কার পাওয়া সুসান সারানডন এর আগেও ফিলিস্তিনপন্থি বিভিন্ন বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন। অন্যদিকে ‘হ্যাক্স’ ধারাবাহিকের জন্য পরিচিত হান্না আইনবাইন্ডারও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের প্রকাশ্য সমালোচক।
নেতানিয়াহুর জাতিসংঘ সফরকে কেন্দ্র করে সংস্থাটির ভেতরে ও বাইরেও প্রতিবাদ দেখা যায়। তিনি সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে বক্তব্য দিতে ওঠার সময় বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন কূটনীতিক অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
জাতিসংঘের বাইরে নিউইয়র্কের বিভিন্ন স্থানেও সেদিন ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ হয়। শত শত মানুষ গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং এতে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের প্রতিবাদে রাজপথে নামেন।
এদিকে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে নেতানিয়াহু ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের পক্ষে বক্তব্য দেন এবং গাজা নিয়ে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের জবাব দেন। তার বক্তব্যের সময় কূটনীতিকদের একাংশ অধিবেশনকক্ষ ত্যাগ করেন।
সানা/আপ্র/২৫/৯/২০২৬