কয়েকটি প্রজন্ম যার সিনেমা দেখে বড় হয়েছে, কলকাতার সেই জনপ্রিয় অভিনেতা প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাজে এখনো বিরাম নেই। বাণিজ্যিক ঘরানার সিনেমায় কয়েক দশক কাটানোর পর ২০১০ সালের পর থেকে অভিনয়ে বৈচিত্র্য আনার দিকে মনোযোগ দেন তিনি। ভিন্নধর্মী গল্প ও চরিত্রে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করেছেন দর্শক-সমালোচকেরা।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) ছিল প্রসেনজিতের ৬৪তম জন্মবার্ষিকী। নতুন কী ধরনের কাজের কথা ভাবছেন জানতে চাইলে কলকাতার বাংলা দৈনিক আনন্দবাজারকে তিনি বলেন, “সেটাই চিন্তার। এত চরিত্র করে ফেলেছি। এখন ভাবতে হয়, নতুন আর কী করব!”
নিজেকে অভিনেতা হিসেবে ভাঙাগড়ার মধ্যে রাখায় বিশ্বাসী প্রসেনজিৎ। কয়েক মাসের ব্যবধানে তাকে রকস্টার ও চিকিৎসকের চরিত্রে দেখা যাচ্ছে দুটি সিনেমায়। তবে নতুন চরিত্র খুঁজে পাওয়ার পথটি এখন আগের চেয়ে কঠিন বলেই মনে করছেন তিনি।
প্রসেনজিৎ বলেন, “কাজ নিয়ে সংগ্রাম করতে হচ্ছে। সহজে আর এ রকম চরিত্র আসছে না, যা আগে করিনি। ভাঙাচোরারও তো একটা সীমা আছে। আর আলাদা কী করব, বুঝে উঠতে পারছি না।”
গত দশ-বারো বছর ধরে নতুন চরিত্র খোঁজার এই সংগ্রামকে নিজের একান্ত যাত্রা বলে মনে করেন তিনি। এ কারণে অভিনয়জীবন নিয়ে নতুন একটি পরিকল্পনাও করেছেন। বছরে দুটি সিনেমা করবেন কেবল বাণিজ্যিক দিক বিবেচনায়। আরো দুটি সিনেমা করবেন নিজের পছন্দ অনুযায়ী।
অভিনেতার ভাষায়, “আমার কাছে কেউই খুব সাধারণ চরিত্র নিয়ে আসেন না। যাতে নতুন কিছু করার আছে, তেমনই জিনিস নিয়ে আসেন।”
সিনেমার দর্শক ও প্রদর্শনব্যবস্থা নিয়েও নিজের ভাবনার কথা জানিয়েছেন প্রসেনজিৎ। তিনি বলেন, “আমাদের যেমন মাল্টিপ্লেক্সে ছবি দেখাতে হবে, তেমনই যারা এ সব জায়গায় যান না, তাদের কাছেও সিনেমা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।”
একসময় বাংলা সিনেমার প্রেক্ষাগৃহগুলো দর্শকে পরিপূর্ণ থাকত। সেই দর্শকদের আবার সিনেমা হলে ফেরাতে সাধারণ প্রেক্ষাগৃহের প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।
১৯৬৮ সালে শিশুশিল্পী হিসেবে হৃষিকেশ মুখার্জির ‘ছোট্ট জিজ্ঞাসা’ সিনেমায় প্রথম পর্দায় আসেন বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের ছেলে প্রসেনজিৎ। ১৯৮৭ সালে সুজিত গুহের ‘অমর সঙ্গী’তে অভিনয় করে ব্যাপক পরিচিতি পান। এরপর একের পর এক জনপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়ে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন তিনি।
নব্বই দশকের শুরুতে ডেভিড ধাওয়ানের ‘আঁধিয়ান’ দিয়ে বলিউডে অভিষেক হয় প্রসেনজিতের। এর আগে সালমান খান অভিনীত ‘ম্যায়নে পেয়ার কিয়া’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাবও পেয়েছিলেন তিনি। এছাড়া ‘সাংঘাই’ নামের একটি সিনেমাতেও কাজ করেছেন।
তবে প্রসেনজিৎকে ‘অভিনেতা’ হিসেবে নতুনভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন প্রয়াত নির্মাতা ঋতুপর্ণ ঘোষ। ২০০৩ সালে তার ‘চোখের বালি’ সিনেমায় অভিনয়ের পর ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক সিনেমা থেকে সরে এসে গল্প ও চরিত্রনির্ভর কাজে মনোযোগী হন তিনি।
২০১০ সালে নির্মাতা সৃজিত মুখার্জির ‘অটোগ্রাফ’ সিনেমার মাধ্যমে তার অভিনয়জীবনে নতুন বাঁক আসে। এরপর একের পর এক গল্প ও চরিত্রনির্ভর সিনেমায় অভিনয় করে নিজেকে ভিন্ন মাত্রায় তুলে ধরেন প্রসেনজিৎ। ‘কাকাবাবু’ সিরিজেও তার অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে।
ওটিটিতে অবশ্য তার অভিষেক হয় হিন্দি সিরিজের মাধ্যমে। ২০২২ সালে ‘স্কুপ’ ও ‘জুবলি’ ওয়েব সিরিজে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি।
সানা/আপ্র/০১/১০/২০২৬