পপসঙ্গীতের কিংবদন্তি মাইকেল জ্যাকসন-কে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত গায়ের রঙ বদলের গুজব অবশেষে স্পষ্টভাবে খণ্ডন করলেন তার ভাতিজা জাফার জ্যাকসন। তিনি জানিয়েছেন, মাইকেল ইচ্ছাকৃতভাবে ত্বকের রঙ পরিবর্তন করতে চাননি-বরং দীর্ঘস্থায়ী শ্বেতী রোগই তার ত্বকের পরিবর্তনের মূল কারণ।
সম্প্রতি নির্মিত বায়োপিক ‘মাইকেল’-এ প্রধান চরিত্রে অভিনয় করা জাফার জ্যাকসন লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রিমিয়ার অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো তিনি শ্বেতাঙ্গ হতে চেয়েছিলেন-এটা সত্য নয়।”
জাফারের মতে, এই চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকরা বুঝতে পারবেন মাইকেলের জীবনে শ্বেতী রোগ কীভাবে প্রভাব ফেলেছিল। তিনি আরো বলেন, মানুষ এই রোগ সম্পর্কে সঠিকভাবে জানে না, অথচ মাইকেল অল্প বয়স থেকেই এর সঙ্গে লড়াই করেছেন।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় শ্বেতী একটি দীর্ঘস্থায়ী ত্বকের রোগ, যেখানে ত্বকের রঞ্জক উৎপাদনকারী কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে শরীরে ধীরে ধীরে সাদা দাগ দেখা দেয়। মাইকেল জ্যাকসনের ক্ষেত্রে ১৯৮০-এর দশকে এই রোগ শনাক্ত হয় এবং সময়ের সঙ্গে তা ছড়িয়ে পড়ে, ফলে তার ত্বকের রঙ অনেকটাই ফর্সা হয়ে যায়।
এই পরিবর্তন থেকেই একসময় গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে তিনি নিজের ত্বক ফর্সা করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে ১৯৯৩ সালে এক সাক্ষাৎকারে মাইকেল নিজেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন এবং জানান, তিনি কোনো ধরনের ত্বক ব্লিচ করেননি।
তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকেই ত্বকের এই পরিবর্তন শুরু হয় বলে জানা যায়। বিশেষ করে ‘থ্রিলার’ অ্যালবামের সময় থেকেই তার শরীরে সাদা দাগ স্পষ্ট হতে থাকে। এরপর ধীরে ধীরে পুরো শরীরেই এর প্রভাব পড়ে।
গুজব আরো জোরালো হয় যখন তিনি এক হাতে সাদা দস্তানা ব্যবহার শুরু করেন। পরবর্তীতে অভিনেত্রী সিসিলি টাইসনসহ বিভিন্নজন জানান, এটি মূলত ত্বকের দাগ ঢাকার জন্য ব্যবহার করা হতো, ফ্যাশনের জন্য নয়।
জাফার জ্যাকসনের সাম্প্রতিক মন্তব্যের মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিনের এই বিতর্ক আবারো আলোচনায় এলেও, পরিবার ও ঘনিষ্ঠদের মতে মাইকেল জ্যাকসনের গায়ের রঙ পরিবর্তন ছিল কোনো ইচ্ছাকৃত সিদ্ধান্ত নয়, বরং শারীরিক রোগেরই স্বাভাবিক প্রভাব।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬