গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ০৩ আগস্ট ২০২৬

মেনু

ডেঙ্গুতে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, দ্রুত পরীক্ষা জরুরি: ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১২:২২ পিএম, ০৫ জুলাই ২০২৬ | আপডেট: ১৪:২২ এএম ২০২৬
ডেঙ্গুতে অ্যান্টিবায়োটিক নয়, দ্রুত পরীক্ষা জরুরি: ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ
ছবি

ছবি সংগৃহীত

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর চিকিৎসায় অ্যান্টিবায়োটিকের প্রয়োজন নেই বলে জানিয়েছেন দেশের খ্যাতনামা মেডিসিন বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ। তিনি বলেন, ডেঙ্গু একটি ভাইরাসজনিত রোগ হওয়ায় এর চিকিৎসা উপসর্গভিত্তিক ও সহায়ক। তবে নিউমোনিয়া, মূত্রনালির সংক্রমণ বা টাইফয়েডের মতো দ্বিতীয় কোনো ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হলে চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া যেতে পারে।

শনিবার (৪ জুলাই) সকালে সংবাদমাধ্যম  আয়োজিত **‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও আমাদের করণীয়’** শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।

অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ বলেন, শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেই রোগীকে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। একইভাবে রক্তও তখনই দিতে হয়, যখন রক্তক্ষরণ হয় বা হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। চিকিৎসকের প্রয়োজনীয় মূল্যায়নের ভিত্তিতেই এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

তিনি জানান, আগে এক ইউনিট প্লাটিলেট সংগ্রহে অন্তত চারজন রক্তদাতার প্রয়োজন হতো। এতে দালালচক্রের তৎপরতা বাড়ার পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি, হেপাটাইটিস সি ও এইচআইভির মতো সংক্রমণের ঝুঁকিও তৈরি হতো। তবে চিকিৎসক ও সাধারণ মানুষের সচেতনতা বাড়ায় বর্তমানে অপ্রয়োজনীয় প্লাটিলেট দেওয়ার প্রবণতা অনেকটাই কমেছে।

ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়ে প্রচলিত নানা ভুল ধারণার কথাও তুলে ধরেন তিনি। পেঁপের পাতা, বিভিন্ন ভেষজ বা তাবিজের কার্যকারিতার কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব ব্যবহারে ক্ষতি না হলেও ডেঙ্গু নিরাময়ে এগুলোর কার্যকারিতা প্রমাণিত হয়নি। ডেঙ্গুর জন্য এখনো নির্দিষ্ট কোনো অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ নেই।

ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে অধ্যাপক আব্দুল্লাহ বলেন, ফ্রান্স ও জাপানসহ বিভিন্ন দেশে কয়েকটি ভ্যাকসিন নিয়ে গবেষণা চলছে। তবে এখনো এমন কোনো ভ্যাকসিন অনুমোদিত হয়নি, যা সবার জন্য নিয়মিত প্রয়োগ করা যায়। তাই ভ্যাকসিনের অপেক্ষায় না থেকে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

তিনি আরো বলেন, বর্তমানে ডেঙ্গুর উপসর্গের ধরনও পরিবর্তিত হচ্ছে। আগে কয়েক দিন উচ্চমাত্রার জ্বরের পর জটিলতা দেখা দিলেও এখন অনেক ক্ষেত্রে এক-দুই দিনের মধ্যেই রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে যাচ্ছে। তাই ডেঙ্গুর মৌসুমে জ্বর হলে অবহেলা না করে দ্রুত পরীক্ষা করানো জরুরি। জ্বরের দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে এনএস-১ অ্যান্টিজেন পরীক্ষা করলে দ্রুত রোগ শনাক্ত করা সম্ভব এবং সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে মৃত্যুঝুঁকি অনেক কমে যায়।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং জ্বরকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণই ডেঙ্গুজনিত জটিলতা ও মৃত্যুহার কমানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

গোলটেবিল আলোচনায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, আইইডিসিআর, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিশেষজ্ঞ ও স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা অংশ নেন।

এসি/আপ্র/০৫/০৭/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায় আমড়া
০১ আগস্ট ২০২৬

দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি কমায় আমড়া

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর বিশেষজ্ঞদের
০১ আগস্ট ২০২৬

ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতার ওপর জোর বিশেষজ্ঞদের

দেশজুড়ে ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়তে থাকায় আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ...

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
০১ আগস্ট ২০২৬

আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে অনেক শিশু: স্বাস্থ্যমন্ত্...

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আধুনিক জীবনযাত্রার প্রভাবে অনেক নব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই