যুক্তরাষ্ট্রের এক টিয়া পাখি ‘স্পুডলস’ ৩২ বছর ৮৬ দিন বয়সে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত টিয়া পাখি হিসেবে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে নাম লিখিয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আমান্ডা বেথের সঙ্গে বসবাস করা এই পাখিটি এখনো প্রাণবন্ত আচরণ ও পরিচিত ডাকের মাধ্যমে সবাইকে মুগ্ধ করে চলেছে।
আমান্ডা বেথের বয়স যখন ২৩ বছর, তখন তাঁর মা তাঁকে প্লাম রঙের মাথাওয়ালা ছোট্ট সবুজ টিয়া পাখিটি উপহার দেন। ঘটনাটি ঘটে ১৯৯৭ সালে। পাখিটির গায়ে থাকা লেগ ব্যান্ড অনুযায়ী তখন তার বয়স ছিল প্রায় তিন বছর।
অল্প সময়ের মধ্যেই আমান্ডা ও স্পুডলসের মধ্যে গভীর বন্ধন তৈরি হয়। পাখিটি আমান্ডার কাঁধে বসতে শুরু করে এবং আঙুলে চড়ে ঘোরাফেরা করতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। সে বিভিন্ন সুরে শিস দিতে পারত, এমনকি মাইক্রোওয়েভের বিপ শব্দও হুবহু নকল করত।
সাধারণভাবে খাঁচায় পালিত টিয়া পাখির আয়ু ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। কিন্তু স্পুডলস সেই ধারণাকে ছাড়িয়ে বহু বছর ধরে বেঁচে রয়েছে, যা আমান্ডা বেথ নিজেও কখনো কল্পনা করেননি।
পাখিটি ছোটবেলা থেকেই বেশ ‘বাচাল’ ছিল। সে ‘প্রিটি বার্ড’, ‘গিভ মি কিসি’ এবং ‘আ-ছু! গুডনেস’-এর মতো শব্দ উচ্চারণ করত। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তার আচরণ কিছুটা শান্ত হলেও প্রতিদিন সকালে ‘প্রিটি বার্ড’ বলা এখনো বন্ধ হয়নি।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক জীবিত টিয়া হিসেবে স্বীকৃতি পেলেও সর্বকালের সবচেয়ে বয়স্ক টিয়ার রেকর্ড এখনো যুক্তরাষ্ট্রের ‘কুকি’ নামের একটি মেজর মিচেল প্রজাতির পাখির দখলে। এটি ২০১৬ সালে মারা যাওয়ার সময় অন্তত ৮২ বছর ৮৮ দিন বেঁচে ছিল।
স্পুডলসের এই অর্জন প্রাণীদের দীর্ঘায়ু ও পরিচর্যার গুরুত্ব নিয়ে নতুন করে আগ্রহ তৈরি করেছে। সূত্র: গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস
সানা/আপ্র/২৯/৬/২০২৬