ভোটার তালিকা সংশোধনসহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিরোধীদের আন্দোলনের মুখে ভারতের বিরোধী দল কংগ্রেসের তীব্র সমালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাঁর অভিযোগ, কংগ্রেস আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে, সংসদের কার্যক্রম ব্যাহত করছে এবং অন্য বিরোধী নেতাদের কথা বলার সুযোগ কেড়ে নিচ্ছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীকে সরাসরি নাম না করে ‘ব্যর্থ পণ্য’ বলেও কটাক্ষ করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) একটি গণমাধ্যম সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে মোদি বলেন, বিশ্ব যখন নতুন বিশ্বব্যবস্থা ও কাঠামোর সন্ধান করছে, তখন কিছু মানুষ ভারতে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির স্বপ্ন দেখছে।
বিদেশে ভারতের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার জন্য বিরোধী নেতাদের দায়ী করে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে অস্থিরতার এই সময়ে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভারতের শক্তিশালী অবস্থান তুলে ধরা উচিত ছিল। কিন্তু কিছু নেতা যেন দেশের সুনাম নষ্ট করতেই উঠে পড়ে লেগেছেন।
রাহুল গান্ধীর প্রতি ইঙ্গিত করে মোদি বলেন, বিরোধী নেতারা বিদেশে গিয়ে ভারতের বদনাম করেন এবং এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে বিদেশিদের কাছে আবেদন জানান।
কংগ্রেসের নেতৃত্বকে বারবার সামনে আনার প্রচেষ্টার সমালোচনা করে মোদি বলেন, নিজেদের ‘ব্যর্থ পণ্য’ বারবার চালু করার চেষ্টা করতে গিয়ে কংগ্রেস আর কত দিন দেশকে ঝুঁকিতে ফেলবে, তা ভাবার বিষয়।
মহাকাশ গবেষণা কেন্দ্র শ্রীহরিকোটার প্রসঙ্গ টেনে তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, বছরে শ্রীহরিকোটা থেকে যতবার কৃত্রিম উপগ্রহ উৎক্ষেপণ করা হয়, তার চেয়েও বেশি বার কংগ্রেস তাদের নেতাকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে।
কংগ্রেসের রাজনৈতিক পতন নিয়ে তাঁর আপত্তি নেই উল্লেখ করে মোদি বলেন, নিজেদের পরিবারের ধারাবাহিক ব্যর্থতার দায় এড়াতে দলটির নেতারা এখন ভারতের সাফল্য, অর্জন ও অগ্রযাত্রা নিয়েই প্রশ্ন তুলছেন। কংগ্রেসকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, ‘তাদের অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে, আঙুর ফল টক ভেবে তারা মূল লতাটিই কেটে ফেলতে উদ্যত হয়েছে।’
গান্ধী পরিবারকে কংগ্রেসের জন্য ‘বিশাল বোঝা’ আখ্যা দিয়ে মোদি দাবি করেন, দলটির জ্যেষ্ঠ নেতারাও ব্যক্তিগত আলোচনায় বিষয়টি স্বীকার করেন, কিন্তু প্রকাশ্যে নীরব থাকেন।
কংগ্রেসের এমন আচরণে সরকারের সমালোচনা করতে চাওয়া অন্য বিরোধী নেতারাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে সরকারের সমালোচনা করতে চান এমন নেতাদের বক্তব্য কংগ্রেসের হট্টগোলে চাপা পড়ে যাচ্ছে। এতে গণতন্ত্রের ক্ষতি হচ্ছে।
মোদি বলেন, বিরোধী দলগুলোর মধ্যে অনেক মেধাবী ও প্রভাবশালী তরুণ সংসদ সদস্য রয়েছেন, যারা সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করতে চান। কিন্তু কংগ্রেস একজন নির্দিষ্ট নেতাকে আলোচনার কেন্দ্রে রাখতে গিয়ে সংসদের কার্যক্রম অচল করে দেয়। এতে অন্য বিরোধী সদস্যরা কথা বলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন।
সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরা এবং ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা আন্দোলনগুলোও কংগ্রেসের কর্মকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে দাবি করেন মোদি। তাঁর মতে, গণতন্ত্রের স্বার্থে এ ধরনের উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলটির আচরণ সেগুলোকে দুর্বল করছে।
কংগ্রেসকে ‘পরজীবী’ দল আখ্যা দিয়ে মোদি দাবি করেন, দলটি এখন ‘নগর নকশালদের’ প্রভাবে পরিচালিত হচ্ছে। তাঁর অভিযোগ, একসময় যারা বনাঞ্চলে তৎপরতা চালাত, তারা এখন কংগ্রেসে অনুপ্রবেশ করে দেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করার ষড়যন্ত্র করছে।
সমালোচনার পাশাপাশি ভারতের ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিয়েও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, নানা চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সরকার ‘বিকশিত ভারত’ গড়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষাকে কাজে লাগিয়ে বড় স্বপ্ন দেখা, প্রতিকূলতাকে সুযোগে রূপান্তর করা এবং উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করার ওপর জোর দেন তিনি।
মোদি বলেন, ১৪০ কোটি নাগরিকের স্বপ্ন ভারতের আত্মবিশ্বাসের প্রধান শক্তি। নতুন উদ্ভাবন, নতুন পথ ও উচ্চতর অর্জনের মাধ্যমে ভারতের সাফল্যকে বৈশ্বিক সাফল্যের সঙ্গে যুক্ত করতে চান তাঁরা। সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
সানা/আপ্র/২৪/১০/২০২৬