মিয়ানমারের গৃহবন্দি গণতন্ত্রপন্থি সাবেক নেত্রী অং সান সু চির সঙ্গে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় পর প্রথমবারের মতো কথা বলেছেন তার ছেলে কিম অ্যারিস। লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনে মায়ের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছেন দেশটির সামরিক বাহিনী সমর্থিত প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র।
দীর্ঘদিন পর মায়ের কণ্ঠ শুনতে পাওয়ার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন বলে জানিয়েছেন অ্যারিস। এত বছর ধরে তিনি মায়ের বিষয়ে কেবল মাঝেমধ্যে পরোক্ষভাবে খবর পেতেন। এবার সরাসরি কথা বলার সুযোগ পেলেন।
কথোপকথনের অনুভূতি জানিয়ে এক বিবৃতিতে অ্যারিস বলেন, দীর্ঘদিন পর মায়ের কণ্ঠ শুনতে পারাটা তার কাছে ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।
মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী সমর্থিত প্রেসিডেন্টের মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, অ্যারিস লন্ডনে মিয়ানমার দূতাবাসের মাধ্যমে টেলিফোনে সু চির সঙ্গে কথা বলেছেন। এ সময় মা ও ছেলের আলাদা ছবিও প্রকাশ করা হয়।
নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী সু চি ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে বন্দি রয়েছেন। ওই বছর মিয়ানমারে সামরিক অভ্যুত্থানে তার নির্বাচিত সরকার ক্ষমতাচ্যুত হয় এবং বেসামরিক নেতাদের আটক করা হয়।
অভ্যুত্থানের পর দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া বিক্ষোভ একপর্যায়ে সশস্ত্র প্রতিরোধ আন্দোলনে রূপ নেয়। এর ফলে মিয়ানমার বিধ্বংসী গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে যায়। এ যুদ্ধে প্রায় এক লাখ মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
চলতি বছরের এপ্রিল মাসে সু চিকে কারাগার থেকে সরিয়ে গৃহবন্দি করা হয়। বিভিন্ন অভিযোগে তাকে মোট ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তবে নিজের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।
মায়ের আটকাবস্থার সমালোচনা করে অ্যারিস বলেন, “আমার মাকে অন্যায়ভাবে আটকে রাখা হয়েছে। একটি কথোপকথন তার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া এতগুলো বছর ফিরিয়ে দিতে পারে না।” তিনি মাকে নিয়মিত, সরাসরি ও ব্যক্তিগত পারিবারিক যোগাযোগ এবং স্বাধীন চিকিৎসাসেবা পাওয়ার নিশ্চয়তা দেওয়ারও দাবি জানান।
দীর্ঘদিন ধরে সু চির স্বাস্থ্য ও শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে খুব কম তথ্যই প্রকাশ্যে এসেছে। এতে তার সমর্থক এবং বিদেশি সরকারগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে।
গত আগস্টে সু চির সঙ্গে আন্তর্জাতিক রেড ক্রস কমিটির একজন কর্মকর্তার সাক্ষাৎ হয়। ওই সাক্ষাৎকে ইতিবাচক বলে বর্ণনা করেছিলেন তার ছেলে অ্যারিস।
সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের রাজা তৃতীয় চার্লসের পাঠানো দুটি বই ও একটি সিলগালা চিঠি পাওয়ার ছবিও প্রকাশ করে মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ।
সু চি ও অন্য রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তির দাবি জানিয়ে অ্যারিস বলেন, “সর্বোপরি, আমার মা এবং সব রাজনৈতিক বন্দিকে অবিলম্বে এবং নিঃশর্তভাবে মুক্তি দিতে হবে। স্বাধীনতা কোনও অনুগ্রহ নয়, যা মঞ্জুর করা যায়, বা কোনও ছাড় নয়, যা নিয়ে আলোচনা করা যায়।”
সানা/আপ্র/২৪/১০/২০২৬