ফুটপাতে নিরাপদে হাঁটা শুধু সুবিধা নয়, এটি নাগরিকদের মৌলিক অধিকার-এমন ঐতিহাসিক ব্যাখ্যা দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। একই সঙ্গে এ অধিকার বাস্তবায়নে সরকারকে আলাদা আইন প্রণয়ন এবং স্থানীয় প্রশাসনকে বাধ্যতামূলকভাবে ফুটপাত ও পথচারী অবকাঠামো নিশ্চিত করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।
শুক্রবার (১৯ জুন) এক মামলার রায়ে বিচারপতি পি এস নরসিমা এবং বিচারপতি অতুল এস চান্দুরকরের বেঞ্চ বলেন, সংবিধানে জীবন ও চলাফেরার অধিকারের সঙ্গে হাঁটার অধিকার গভীরভাবে সম্পর্কিত। তাই রাস্তা ব্যবস্থাপনায় পথচারীদের স্বার্থকে মোটরযানের চেয়ে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
রায়ে বলা হয়, শহর ও নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, সিটি করপোরেশন, পৌরসভা এবং স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব হলো নিরাপদ, চিহ্নিত ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণযোগ্য ফুটপাত নিশ্চিত করা। এই দায়িত্ব অবহেলা করা হলে নাগরিকরা সাংবিধানিকভাবে প্রতিকার ও ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারবেন।
মামলার পটভূমিতে বলা হয়, এক শিশু তার বাবার সঙ্গে স্কুলে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায়, কারণ সেখানে কোনো ফুটপাত বা জেব্রা ক্রসিং ছিল না। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আদালত এই গুরুত্বপূর্ণ রায় দেয়।
সুপ্রিম কোর্ট প্রথমে নিম্ন আদালতের ক্ষতিপূরণ পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করে সেটি বাড়িয়ে ১১ লাখ ৪৪ হাজার রুপি নির্ধারণ করে এবং দুই মাসের মধ্যে পরিশোধের নির্দেশ দেয়।
রায়ে আদালত নগর পরিকল্পনা নিয়ে কঠোর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে বলে, দীর্ঘদিন ধরে শহরগুলো শুধু যানবাহন চলাচলের উপযোগী করে গড়ে তোলা হয়েছে, কিন্তু পথচারীদের নিরাপত্তা উপেক্ষিত থেকেছে। আদালতের ভাষায়, “মানুষ চাকার আগেও হাঁটতে জানত, কিন্তু আধুনিক নগরায়ণ হাঁটার অধিকারকে প্রায় অদৃশ্য করে দিয়েছে।” এ ছাড়া হাঁটার অধিকার সুরক্ষায় একটি স্থায়ী নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনেরও তাগিদ দেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে দ্রুত আইনি কাঠামো তৈরির নির্দেশ পাঠানো হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, এই রায় শুধু একটি দুর্ঘটনার ক্ষতিপূরণ মামলার সিদ্ধান্ত নয়, বরং দক্ষিণ এশিয়ার নগর পরিকল্পনায় পথচারী অধিকারকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৯/৬/২০২৬