গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

মেনু

হরমুজে ইরানের কর্তৃত্বের বার্তা কলিবফের

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:২৫ পিএম, ২৩ জুন ২০২৬ | আপডেট: ২০:২৪ এএম ২০২৬
হরমুজে ইরানের কর্তৃত্বের বার্তা কলিবফের
ছবি

সুইজারল্যান্ডের জুরিখ বিমানবন্দরে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের কলিবফ -ছবি রয়টার্স

হরমুজ প্রণালি আর কখনোই যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার ও দেশটির আলোচক দলের প্রধান মোহাম্মদ বাকের কলিবফ। একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক আইনের আলোকে হরমুজ প্রণালি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।

সুইজারল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসান-সংক্রান্ত আলোচনার পর এ মন্তব্য করেন কলিবফ। পাকিস্তান ও কাতারের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ওই আলোচনা ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, আলোচনার পর কলিবফ বলেন, “হরমুজ প্রণালি আর কখনোই এর যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরে যাবে না। আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী এটি ইসলামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হবে।”

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত হরমুজ প্রণালি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার কেন্দ্রবিন্দু। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে রপ্তানি হওয়া বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়। ফলে এ পথের নিরাপত্তা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যেকোনো বক্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

পাকিস্তানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সুইজারল্যান্ডের ব্যুর্গেনস্টকের একটি রিসোর্টে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে টেলিগ্রামে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় কলিবফ আলোচনাকে ইতিবাচক বলে অভিহিত করেন।

তিনি বলেন, “আমার দৃষ্টিতে এই সফর উল্লেখযোগ্য সাফল্য এনে দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি, লেবাননের পরিস্থিতি, তেলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা সম্পদ অবমুক্তির মতো বিষয়গুলোতে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।”

ইরানি এই নেতা কূটনীতি ও সামরিক শক্তির সম্পর্ক নিয়েও বিস্তারিত বক্তব্য দেন। তার মতে, এ দুটি ক্ষেত্রকে পরস্পরবিরোধী হিসেবে দেখার সুযোগ নেই; বরং একটি অন্যটির পরিপূরক।

কলিবফ বলেন, “অনেকে মনে করেন কূটনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্র একে অপরের বিপরীত। বাস্তবে এ ধারণা সঠিক নয়। সামরিক ক্ষেত্রে অর্জিত সাফল্যের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিশ্চিত হয় রাজনৈতিক ও আইনগত স্বীকৃতির মাধ্যমে। কূটনৈতিক প্রক্রিয়া ছাড়া যুদ্ধক্ষেত্রের অর্জন টেকসই হয় না।”

তিনি আরো বলেন, অনেক সময় সামরিক বাস্তবতা এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করে, যখন কূটনীতি অপরিহার্য হয়ে ওঠে। তার ভাষায়, “আলোচনা ও দরকষাকষি সংগ্রামেরই একটি পদ্ধতি; এটি সংগ্রামের ধারাবাহিক অংশ। তাই সামরিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রকে মুখোমুখি অবস্থানে দাঁড় করানো বিভ্রান্তিকর।”

বিশ্লেষকদের মতে, কলিবফের বক্তব্য শুধু যুদ্ধ-পরবর্তী আলোচনা নয়, বরং হরমুজ প্রণালি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ভবিষ্যৎ ভূমিকাসংক্রান্ত তেহরানের বৃহত্তর কৌশলগত অবস্থানেরও ইঙ্গিত বহন করে।


সানা/ডিসি/আপ্র/২৩/৬/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

তারেক রহমানের চীন সফরকালে ভারত-চীন বৈঠক
২৩ জুন ২০২৬

তারেক রহমানের চীন সফরকালে ভারত-চীন বৈঠক

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চলমান চীন সফরের মধ্যেই নয়াদিল্লিতে চীনের শীর্ষ কূটনীতিক ওয়াং...

তৃণমূল থেকে ‘অপসারিত’ মমতা, নতুন চেয়ারম্যান অরূপ
২৩ জুন ২০২৬

তৃণমূল থেকে ‘অপসারিত’ মমতা, নতুন চেয়ারম্যান অরূপ

পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নাটকীয় মোড় হিসেবে দেখা যাচ্ছে ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস ঘিরে নতুন নেতৃত্ব সংকট...

সমঝোতা না মানলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের
২৩ জুন ২০২৬

সমঝোতা না মানলে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক ইরান বাস্তবায়ন না করলে ‘যা করা দরকার, তা–ই করার’ হুঁশিয়ারি...

কলকতায় সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউর নাম বদলের বিতর্ক
২৩ জুন ২০২৬

কলকতায় সোহরাওয়ার্দী অ্যাভিনিউর নাম বদলের বিতর্ক

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের দেড় মাসের মাথায় কলকাতার একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ সড়কের নাম প...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন

সিলেটের জেলা প্রশাসক (ডিসি) মো. সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের প্রজ্ঞাপন বাতিল করে তাকে স্বপদে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত রোববার (২১ জুন) বিকেলে সিলেট নগরের কোর্ট পয়েন্ট এলাকায় ‘সিলেটের সর্বস্তরের নাগরিক সমাজ’-এর ব্যানারে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। আপনি কি মনে করেন এই মানববন্ধন ও দাবি সঠিক?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 18 ঘন্টা আগে