ইউরোপজুড়ে চলমান ভয়াবহ তাপপ্রবাহে প্রাণহানির সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ফ্রান্সের জনস্বাস্থ্য সংস্থা সাঁতে পাবলিকের প্রাথমিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, দেশটিতে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা এক হাজার ছাড়িয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, ২৪ জুন থেকে কয়েক দিনের ব্যবধানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই অতিরিক্ত মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে, যার বড় অংশই বয়স্ক মানুষ।
সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রায় ৮৫ শতাংশই ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে ঘটেছে। বিশেষ করে একাকী বসবাসকারী এবং কেয়ার হোমে থাকা প্রবীণরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে ছিলেন। কর্তৃপক্ষ সতর্ক করে বলেছে, হাসপাতাল ও কেয়ার হোমের পূর্ণাঙ্গ তথ্য যোগ হলে মৃত্যুর সংখ্যা আরো বাড়তে পারে। তীব্র গরমজনিত নানা শারীরিক জটিলতায় আরো বহু মৃত্যুর ঘটনা আনুষ্ঠানিক হিসাবের বাইরে রয়ে গেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত ২০ জুন থেকে শুরু হওয়া এই তাপপ্রবাহ ইউরোপের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ। উচ্চচাপের আবহাওয়াজনিত এই পরিস্থিতিতে পশ্চিম ইউরোপজুড়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি তাপমাত্রা বিরাজ করছে। ফ্রান্সে কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি ওঠে, যা জনজীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এই তাপপ্রবাহে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হয়ে উঠেছে। জার্মানিতে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছে নতুন রেকর্ড তৈরি করেছে। স্পেনে তাপজনিত কারণে তিন শতাধিক মানুষের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। বহু দেশে হাসপাতালগুলো রোগীতে উপচে পড়েছে, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামো ব্যবস্থায় চাপ বেড়েছে এবং ট্রেন ও গণপরিবহন ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটেছে।
চরম গরমের কারণে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া আয়োজন স্থগিত বা বাতিল করা হয়েছে। কোথাও কোথাও নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে গরম হয়ে ওঠায় পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কার্যক্রমও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ইউরোপের এই অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশ্বের গড়ের তুলনায় দ্বিগুণ দ্রুত গতিতে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে এমন তাপপ্রবাহ আরো ঘন ঘন ঘটার আশঙ্কা তৈরি করছে।
ফ্রান্সের আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, কিছু এলাকায় তাপপ্রবাহ কিছুটা কমলেও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাপপ্রবাহের প্রভাব স্বাভাবিক আবহাওয়া ফিরে আসার পরও প্রায় দশ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সূত্র: এএফপি
সানা/আপ্র/২৮/৬/২০২৬