যুক্তরাজ্যের রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা ইউকে গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্টসের (ইউকেজিআই) অভ্যন্তরীণ তথ্য ফাঁসের ঘটনায় সরকারি সংস্থাগুলোর সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এক কর্মীর অবহেলার কারণে প্রায় ৪০ ঘণ্টা ধরে অর্ধশতাধিক সরকারি কর্মকর্তার ব্যক্তিগত তথ্য অনলাইনে অরক্ষিত অবস্থায় ছিল।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নিরাপত্তা ত্রুটির কারণে সংস্থাটির উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত তথ্যও উন্মুক্ত হয়ে পড়ে। ইউকেজিআই জানিয়েছে, অভ্যন্তরীণ একটি নথিতে থাকা ৫১ জন সরকারি কর্মকর্তার নাম ও দাপ্তরিক ইমেইল ঠিকানা অনলাইনে প্রকাশিত হয়েছিল।
ইউকেজিআই যুক্তরাজ্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক স্বার্থ দেখভাল করে। সংস্থাটি চ্যানেল ফোর, পোস্ট অফিসসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সরকারের বিনিয়োগ ও শেয়ার ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে। ২০০৮ সালের বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের পর রয়্যাল ব্যাংক অব স্কটল্যান্ড ও লয়েডসের মতো ব্যাংকে সরকারের অংশীদারত্ব ব্যবস্থাপনাতেও সংস্থাটির ভূমিকা ছিল।
বার্ষিক প্রতিবেদনে ইউকেজিআই জানিয়েছে, একজন কর্মী নির্ধারিত তথ্য নিরাপত্তা নীতি অনুসরণ না করায় এ ঘটনা ঘটে। তবে ওই কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘‘তথ্য নিরাপত্তা নীতি মেনে না চলার কারণে উচ্চপর্যায়ের ব্যবস্থাপনা তথ্য এবং ৫১ জন সরকারি কর্মকর্তার নাম ও দাপ্তরিক ইমেইল ঠিকানা থাকা একটি অভ্যন্তরীণ নথি প্রায় ৪০ ঘণ্টা উন্মুক্ত ছিল।’’
ঘটনাটি ঠিক কোন তারিখে ঘটেছে, তা প্রকাশ করেনি সংস্থাটি। তবে জানানো হয়েছে, গত অর্থবছরের মধ্যেই বিষয়টি শনাক্ত করা হয়। পরে দ্রুত সংস্থার পরিচালনা পর্ষদ এবং যুক্তরাজ্যের তথ্য সুরক্ষা তদারকি সংস্থা ইনফরমেশন কমিশনার্স অফিসকে বিষয়টি জানানো হয়।
তথ্য ফাঁসের পর ইউকেজিআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা পর্যালোচনার জন্য বাইরের বিশেষজ্ঞ নিয়োগ করে। বিশেষজ্ঞরা সংস্থাটির নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার প্রস্তুতি আরো শক্তিশালী করার পরামর্শ দেন।
ইউকেজিআই জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞদের দেওয়া অধিকাংশ পরামর্শ ইতোমধ্যে বাস্তবায়ন করা হয়েছে এবং বাকি সুপারিশগুলো আগামী কয়েক মাসের মধ্যে কার্যকর করা হবে।
বিশ্বজুড়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের সময়ে এ ধরনের তথ্য ফাঁসকে নতুন ধরনের সাইবার ঝুঁকির সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিস্তৃতি যেমন প্রযুক্তিগত সুবিধা বাড়াচ্ছে, তেমনি নিরাপত্তার দুর্বল জায়গাগুলো শনাক্ত ও কাজে লাগানোর ঝুঁকিও তৈরি করছে।
সম্প্রতি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন সেবার নিরাপত্তা দুর্বলতা শনাক্ত হওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ভবিষ্যতে সরকারি ও বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আরো শক্তিশালী করা জরুরি হয়ে পড়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৮/২০২৬