বাংলাদেশ ও নেপালের ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে ভারতের ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের তুলনার সমালোচনা করেছেন সংগঠনটির মুখ্য সংগঠক অভিজিত দিপকে। তিনি বলেছেন, দুটি আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য এক নয়।
সোমবার (৩ আগস্ট) ভারতীয় বার্তা সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অভিজিত দিপকে বলেন, “বাংলাদেশ ও নেপালের আন্দোলনের সঙ্গে দিল্লির যন্তর মন্তরের আন্দোলনের তুলনা করা হচ্ছে শুধু আমাদের বদনাম করার জন্য। আমরা একরকম নই।”
এর আগে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় এক অনুষ্ঠানে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখক তসলিমা নাসরিন ভারতের সিজেপির আন্দোলনের একটি ভিডিও দেখে ২০২৪ সালের বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলনের কথা মনে পড়েছিল বলে মন্তব্য করেন।
তসলিমা বলেন, বাংলাদেশের ছাত্র আন্দোলন সম্পর্কে শুরুতে মানুষ ভেবেছিল, এটি শুধু কোটা সংস্কারের দাবিতে সীমাবদ্ধ থাকবে। পরে পরিস্থিতি ভিন্ন দিকে যায় এবং সরকার পরিবর্তনের ঘটনা ঘটে। তার মতে, পরবর্তী সময়ে এ আন্দোলনের পেছনে উগ্রপন্থী গোষ্ঠীর ভূমিকার বিষয়টি সামনে আসে।
তসলিমার ওই মন্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে অভিজিত দিপকে বলেন, সিজেপির আন্দোলন সম্পূর্ণ ভিন্ন বিষয় নিয়ে হয়েছে। তিনি জানান, জাতীয় নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের প্রতিবাদ এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে গত ২০ জুন থেকে দিল্লির যন্তর মন্তরে তাদের আন্দোলন শুরু হয়।
আন্দোলনের সময় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে। পরে তরুণদের পাশাপাশি শিল্পী, বুদ্ধিজীবী, সমাজকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে আন্দোলন আরো বিস্তৃত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
অভিজিত দিপকে জানান, সিজেপির টানা ৩৭ দিনের আন্দোলনের পর গত ২৫ জুলাই শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ করেন। এরপর প্রহ্লাদ যোশী নতুন শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
তবে সিজেপি জানিয়েছে, তারা প্রহ্লাদ যোশীকেও শিক্ষামন্ত্রীর পদে দেখতে চায় না। সর্বভারতীয় প্রবেশিকা পরীক্ষা বা নিট পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের পরিবারকে দ্রুত ক্ষতিপূরণ না দিলে নতুন করে বড় আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে সংগঠনটি।
অভিজিত দিপকে আরো বলেন, দেশজুড়ে ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার পর সিজেপির দায়িত্ব বেড়েছে এবং শিগগিরই সংগঠনের কার্যক্রম আরো বিস্তৃত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৮/২০২৬