বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের নাম পরিবর্তন করে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’ করেছে। দেশের নিজস্ব ভাষার বানান ও উচ্চারণের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এ ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেনিস অ্যাডিয়াং।
নাম পরিবর্তনের পর দেশটির আন্তর্জাতিক কোড ‘এনআরইউ’-এর পরিবর্তে ‘এনআরো’ হবে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকদের আর ‘নাউরুয়ান’ নয়, ‘দেই-নাওয়েরো’ নামে পরিচিত করা হবে।
প্রেসিডেন্ট অ্যাডিয়াং গত জানুয়ারিতে পার্লামেন্টে নাম পরিবর্তনের প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি জানিয়েছিলেন, এই উদ্যোগ দেশের ঐতিহ্য, নিজস্ব ভাষা ও জাতীয় পরিচয়কে সম্মান জানানোর অংশ। মে মাসে এ বিষয়ে গণভোট আয়োজনের কথা থাকলেও পরে সরকার জানায়, ‘নাওয়েরো’ নামটি কখনোই হারিয়ে যায়নি এবং জাতীয় প্রতীকেও এর ব্যবহার রয়েছে। তাই আলাদা গণভোটের প্রয়োজন নেই।
ঐতিহাসিকভাবে বিদেশিদের সহজ উচ্চারণের কারণে দেশটি ‘নাউরু’ নামে পরিচিতি পায়। তবে স্থানীয় ভাষায় এর নাম ছিল ‘নাওয়েরো’। উপনিবেশিক পরিচয়ের পরিবর্তে নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিচয় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
টুভালু ও ভ্যাটিকান সিটির পর প্রায় ১২ হাজার জনসংখ্যার নাওয়েরো বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ। একসময় জার্মানির উপনিবেশ এবং পরে অস্ট্রেলিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকা দেশটি ১৯৬৮ সালে স্বাধীনতা লাভ করে।
১৯৭০-এর দশকে ফসফেট খনির কারণে দেশটি বিপুল অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন করেছিল। তবে ১৯৯০-এর দশকে খনিজ সম্পদের সংকট ও অর্থনৈতিক সমস্যার মুখে পড়ে। বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি দেশটির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ পরিস্থিতিতে জনগণের ভবিষ্যৎ নিরাপত্তায় দেশটি ‘পেইড সিটিজেনশিপ’ কর্মসূচিও পরিচালনা করছে।
নাম পরিবর্তনের সঙ্গে দেশটির উড়োজাহাজ ও জাহাজের নামেও পরিবর্তন আসবে। ইতোমধ্যে জাতিসংঘ, অস্ট্রেলিয়া, নিউ জিল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের দূতাবাস নিজেদের ওয়েবসাইটে নতুন নাম ‘নাওয়েরো’ ব্যবহার শুরু করেছে।
এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড নিজেদের নাম পরিবর্তন করে ‘এসওয়াতিনি’ এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে নিজেদের নাম পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়। সূত্র: এপি
সানা/ডিসি/আপ্র/৩/৮/২০২৬