কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যার চার দিন পার হলেও এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। তবে অভিযুক্তদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
গত সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে নিহতের বড় ভাই ফজলুর রহমান বাদী হয়ে দৌলতপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় প্রধান ও হুকুমের আসামি করা হয়েছে স্থানীয় জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদকে (৩৮)। তিনি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি এবং বর্তমানে দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদের সদস্য।
এজাহারে আরো তিনজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তাঁরা হলেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের দৌলতপুর উপজেলা কমিটির সভাপতি মো. আসাদুজ্জামান (৩৫), রাজীব মিস্ত্রী (৪৫) এবং মো. শিহাব। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরো ১৮০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলাটি তদন্ত করছেন দৌলতপুর থানার পরিদর্শক শেখ মো. আলী মর্তুজা। তিনি জানান, এখনো কোনো আসামিকে গ্রেফতার করা যায়নি, তবে তাদের ধরতে অভিযান চলছে এবং দ্রুত গ্রেফতার সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত শনিবার বেলা পৌনে তিনটার দিকে ফিলিপনগর এলাকায় নিজ বাড়ির দরবার শরিফে অবস্থান করছিলেন আবদুর রহমান। এ সময় প্রধান আসামির নির্দেশে বিপুলসংখ্যক লোক লোহার রড, দা, ছুরি, কুড়াল ও লাঠিসোঁটা নিয়ে দরবারে হামলা চালায়। তারা দরজা-জানালা ভাঙচুর করে ভেতরে প্রবেশ করে এবং উপস্থিত ব্যক্তিদের ওপর হামলা চালায়।
হামলার সময় আবদুর রহমানকে লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়, এতে তিনি গুরুতর আহত হন। একই ঘটনায় জোবায়ের নামের এক ব্যক্তি মারধরের শিকার হন এবং দরবারের পরিচারিকা জামিরন হামলা ঠেকাতে গিয়ে গুরুতর জখম হন।
এজাহারে আরো বলা হয়েছে, হামলাকারীরা দরবার শরিফে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে প্রায় ২০ লাখ টাকার ক্ষতি করে। পাশাপাশি একটি আলমারি ভেঙে ৫ লাখ টাকা ও ৪ ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে নেয়।
অভিযুক্ত জামায়াত নেতা মুহাম্মদ খাজা আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এদিকে, ঘটনার পর দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করেছে, এটি কোনো রাজনৈতিক ঘটনা নয় এবং দলের কোনো নেতা বা কর্মী এ ঘটনায় জড়িত নন। তারা সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবি জানিয়েছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১৫/৪/২০২৬