কর্মজীবী নারীদের মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সংশ্লিষ্ট সুবিধা সীমিত করার বিধান কেন অসাংবিধানিক ঘোষণা করা হবে না-এ প্রশ্নে রুল জারি করেছে হাই কোর্ট। একই সঙ্গে সরকারি ও বেসরকারি খাতের কর্মজীবী নারীদের জন্য সমান ও সীমাহীন মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে একটি অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়নের নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তাও রুলে জানতে চাওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) হাই কোর্টের বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের বেঞ্চে এ রুল জারি করা হয়। মাতৃত্বকালীন ছুটির সীমাবদ্ধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট আবেদনের শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন।
গত ১৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ইশরাত হাসান এ রিট দায়ের করেন। এতে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, আইন সচিবসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়।
শুনানি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে রিটকারী আইনজীবী ইশরাত হাসান বলেন, দেশের সব কর্মজীবী নারীর জন্য বৈষম্যহীন ও সমান মাতৃত্বকালীন অধিকার নিশ্চিত করতেই এই রিট দায়ের করা হয়েছে।
তিনি জানান, শ্রম আইন এবং বাংলাদেশ সার্ভিস রুলসের সংশ্লিষ্ট বিধান চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। শ্রম আইনের ওই ধারায় বলা আছে, কোনো নারী সন্তান প্রসবের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম ছয় মাস কাজ না করলে তিনি মাতৃত্বকালীন ছুটি ও সুবিধার যোগ্য হবেন না। এ শর্ত প্রথম, দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় সন্তান-সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এছাড়া বিধান অনুযায়ী, দ্বিতীয় বা তৃতীয় সন্তান জীবিত থাকলে তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে মাতৃত্বকালীন ছুটি প্রযোজ্য হবে না বলেও উল্লেখ রয়েছে। ফলে ছয় মাসের কম চাকরির মেয়াদ থাকলে প্রথম ও দ্বিতীয় সন্তানের ক্ষেত্রেও ছুটি থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিধান রয়েছে।
আইনজীবী আরো জানান, বাংলাদেশ সার্ভিস রুলস অনুযায়ী একজন নারী সরকারি কর্মচারী তাঁর চাকরিজীবনে সর্বোচ্চ দুইবার মাতৃত্বকালীন ছুটি পেতে পারেন; তৃতীয় সন্তানের ক্ষেত্রে এ সুবিধা প্রযোজ্য নয়।
ইশরাত হাসান বলেন, মাতৃত্বকালীন ছুটি কোনো পুরস্কার নয়, বরং এটি একটি অপরিহার্য প্রয়োজন। মা ও শিশুর শারীরিক ঝুঁকি সব সন্তানের ক্ষেত্রেই সমানভাবে বিদ্যমান। শিশুর সঠিক বিকাশের জন্য অন্তত ছয় মাস বুকের দুধ পান করানো জরুরি, যা বাধ্যতামূলক স্বাস্থ্যগত প্রয়োজন।
তিনি আরো বলেন, “একটি শিশুকে শুধুমাত্র এ কারণে বঞ্চিত করা যায় না যে সে তৃতীয় সন্তান। অথচ বিদ্যমান বিধানগুলোতে এমন বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা কর্মজীবী নারী ও শিশু উভয়ের অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।”
সানা/আপ্র/৩০/৬/২০২৬