ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও হামলার ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে ডাকসু নেতারাও রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত রাজধানীর শাহবাগ থানা ও এর আশপাশের এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাত পৌনে ১০টার দিকে আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা চলছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
আহতদের মধ্যে রয়েছেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এ বি জুবায়ের (২২) এবং সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুসাদ্দিক আলী ইবনে মোহাম্মদ (২৩)। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানজিম, আলভি, এহসানসহ কয়েকজন এবং একাধিক গণমাধ্যমকর্মী আহত হন। আহত সাংবাদিকদের মধ্যে বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক ও অনলাইন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা রয়েছেন। তাঁদের একজনের চোখ ও মুখে গুরুতর আঘাত লাগে।
পুলিশ জানায়, সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানায় জানানো হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্রশিবির-সমর্থিত এক শিক্ষার্থীর নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব তারেক রহমান ও তাঁর কন্যা জাইমা রহমানকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থী অভিযোগ অস্বীকার করে থানায় সাধারণ ডায়েরি করতে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
এ সময় ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা শাহবাগ থানা ঘেরাও করেন। পরে সেখানে উপস্থিত হলে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মুসাদ্দিকের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠে। হামলার মুখে তাঁরা থানার ভেতরে আশ্রয় নেন।
সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ওপরও হামলা চালানো হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এক পর্যায়ে সংগঠনের নেতাদের নেতৃত্বে উত্তেজিত কর্মীরা সাংবাদিকদের ধাক্কা দিয়ে থানার চত্বর পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে মারধর করেন।
পরে কিছু সময়ের জন্য পরিস্থিতি শান্ত হলেও আবার উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাতে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েমের নেতৃত্বে শিবির ও ডাকসুর নেতা-কর্মীরা থানার সামনে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি স্লোগান ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করে। আহতদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার বিষয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করেছে। তবে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো চূড়ান্ত বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬