পবিত্র আশুরা উপলক্ষে রাজধানীর পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক হোসেনি দালান ইমামবাড়া থেকে ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল বের হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) সকাল ১০টায় হাজারো শোকাহত মানুষের অংশগ্রহণে শুরু হওয়া এ মিছিল কারবালার প্রান্তরে হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের শাহাদাতের স্মৃতিকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করে।
হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)–এর দৌহিত্র হজরত ইমাম হোসাইন (রা.) এবং তাঁর পরিবারের সদস্যরা শাহাদাতবরণ করেন। সেই শোকাবহ ঘটনার স্মরণে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের শিয়া সম্প্রদায়ের হাজারো মানুষ কালো পোশাক পরে তাজিয়া মিছিলে অংশ নেন। তাঁদের অনেকের হাতে ছিল নিশান, আলম, দুলদুল ঘোড়ার প্রতীক, পাঞ্জাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতীক। বুক চাপড়ে মাতম আর ‘ইয়া হোসাইন’ ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
তাজিয়া মিছিলে অংশ নিতে কেরানীগঞ্জ থেকে আসা আবু হোসেন বলেন, কারবালার প্রান্তরে এই দিনেই ইমাম হোসাইন (রা.) ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে শাহাদাতবরণ করেন। ইসলামের ইতিহাসে এটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনা। তাই দিনটি তাঁদের জন্য শোক, দুঃখ ও মাতমের।
নবাবগঞ্জ থেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া মোহাম্মদ স্বপন বলেন, নতুন প্রজন্মকে কারবালার প্রকৃত ইতিহাস জানাতেই তিনি সন্তানদের সঙ্গে নিয়ে প্রতিবছর এ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
হোসেনি দালান ইমামবাড়া মহররম মিছিল কমিটির আহ্বায়ক এম এম ফিরোজ হোসেন বলেন, কারবালার ইতিহাস সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে জীবন উৎসর্গের ইতিহাস। এ দিনে তাঁর প্রত্যাশা, সমাজ থেকে অন্যায়-অনাচার দূর হয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হবে এবং আগামী প্রজন্ম একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ পাবে। তিনি তাজিয়া মিছিলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় প্রশাসনের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান।
হোসেনি দালান থেকে বের হয়ে মিছিলটি বকশীবাজার, উর্দু রোড, লালবাগ, আজিমপুর, নীলক্ষেত, নিউমার্কেট, সায়েন্স ল্যাব ও জিগাতলা হয়ে ধানমন্ডি লেকে গিয়ে শেষ হবে। সেখানে প্রতীকী তাজিয়া বিসর্জনের মধ্য দিয়ে দিনের অন্যতম প্রধান কর্মসূচি সম্পন্ন হবে।
মিছিল শেষে বাদ জুমা হোসেনি দালানে ‘ফাকা শিকানি’ নামে পরিচিত শিরনি বিতরণ করা হবে। সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত হবে ‘সামে গারিবা’ নামে বিশেষ মজলিশ। এ সময় কারবালার মর্মান্তিক ঘটনার স্মরণে ইমামবাড়ার আলো নিভিয়ে শোক পালন করা হবে।
রাজধানীর হোসেনি দালান ছাড়াও প্রায় ৩০টি ছোট-বড় ইমামবাড়ায় মহররম উপলক্ষে তাজিয়া মিছিল, মজলিশ ও বিভিন্ন ধর্মীয় কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্যে বড় কাটারা ইমামবাড়া, মোহাম্মদপুরের শিয়া মসজিদসংলগ্ন ইমামবাড়া, পুরানা পল্টন ইমামবাড়া এবং মগবাজার ইমামবাড়ায় দিনব্যাপী কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
তাজিয়া মিছিল নির্বিঘ্ন করতে মিছিলের সামনে ও পেছনে বিশেষ অস্ত্র ও কৌশল দলের সদস্যসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
সানা/আপ্র/২৬/৬/২০২৬