ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ও কুমিল্লা জেলা পশ্চিম শাখার সাবেক সভাপতি জিসান মিয়া প্রধানকে ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কুমিল্লা জেলা পুলিশের দাবি, জিসান অপহরণের শিকার হননি; বিয়ে এড়াতে তিনি নিজেই আত্মগোপনে ছিলেন।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে জিসান নিখোঁজ হয়েছেন উল্লেখ করে তার চাচাতো ভাই রাসেল আহম্মেদ দাউদকান্দি মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এর পর জেলা পুলিশের একাধিক দল তার সন্ধানে কাজ শুরু করে। অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, কয়েক মাস আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বিধবা নারীর সঙ্গে জিসানের পরিচয় হয় এবং পরে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গত ২০ মে দাউদকান্দির একটি ভাড়া বাসায় বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন জিসান। এতে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হলে তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দেওয়া হয় এবং একপর্যায়ে ভ্রূণ নষ্ট করা হয়। পরে ওই নারী বিয়ের জন্য চাপ দিলে ১২ জুন বিয়ের আশ্বাস দেন জিসান। তবে বিয়ে এড়ানোর উদ্দেশ্যে ১১ জুন রাতেই তিনি আত্মগোপনে যান এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে নিতে তার চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে নিখোঁজের জিডি করান বলে পুলিশের দাবি।
শুক্রবার (১২ জুন) রাত পৌনে ১০টার দিকে কুমিল্লার লাকসাম রেলওয়ে জংশন এলাকা থেকে জিসানকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তিনি অপহরণের দাবি করলেও প্রাথমিক তদন্তে অপহরণের কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জিসানকে উদ্ধারের খবর পাওয়ার পর শুক্রবার রাতে ভুক্তভোগী নারী দাউদকান্দি মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ধর্ষণ, ধর্ষণে সহায়তা এবং ভ্রূণ নষ্ট করার অভিযোগ আনা হয়েছে। জিসানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে এবং মামলায় মোট চারজনকে আসামি করা হয়েছে।
কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, মামলার আসামি হিসেবে জিসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। বর্তমানে তিনি কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পুলিশি হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। শারীরিক অবস্থার উন্নতি হলে তাকে আদালতে হাজির করা হবে।
দাউদকান্দি-চান্দিনা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার খলিলুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, জিসানকে কেউ অপহরণ করেনি। এক নারীকে ধর্ষণ, প্রতারণা এবং ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এদিকে জিসানের পরিবার দাবি করেছে, তিনি বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে দাউদকান্দিতে ফেরার পথে নিখোঁজ হন। রাত আটটার দিকে বাবাকে ফোন করে দাউদকান্দিতে পৌঁছানোর কথা জানানোর পর থেকে তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে তাকে খুঁজে না পেয়ে থানায় জিডি করা হয়।
জিসানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্বেগ প্রকাশ করে তার দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান। একই ঘটনায় ছাত্রশিবিরও বিবৃতি দিয়ে অভিযোগ করেছিল, জিসানকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে প্রশাসনের কাছে তথ্য দেওয়ার পরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
তবে জিসান উদ্ধারের পর ঘটনাপ্রবাহ নতুন মোড় নেয়। ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তাদের জানানো হয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উপযুক্ত তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণ হলে জিসানের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অন্যদিকে শিবির নেতা ও ডাকসুর সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম ফরহাদ জানিয়েছেন, জিসান মিয়া প্রধানকে সংগঠন থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সানা/আপ্র/১৩/৬/২০২৬