গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

মেনু

রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

সুখদেব কুমার সানা

সুখদেব কুমার সানা

প্রকাশিত: ১২:৪৫ পিএম, ২০ মার্চ ২০২৬ | আপডেট: ০২:৩৩ এএম ২০২৬
রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ
ছবি

ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি আর আনন্দের মহামিলন উৎসব ঈদ -ছবি সংগৃহীত

দীর্ঘ এক মাসের সংযম, ত্যাগ ও আত্মশুদ্ধির সাধনার পর আবারো দ্বারে কড়া নাড়ছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। আকাশে শাওয়ালের চাঁদ উঠলেই ধ্বনিত হবে খুশির বার্তা-ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি আর আনন্দের মহামিলন উৎসব ঈদ।  
এক মাস সিয়াম সাধনার পর মুসলমানদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন হবে শনিবার (২১ মার্চ)। প্রতি বছরের মতো গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে ঈদের তারিখ জানায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভাপতি ও ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ। এবার ৩০ রোজা পূর্ণ করে চাঁদ দেখা যাবে বলে ঈদ হবে শনিবার।

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই ভালোবাসা ভাগাভাগি করে নেওয়া। নতুন পোশাকের ঘ্রাণ, সেমাই-ফিরনির স্বাদ, ঘরমুখো মানুষের ব্যস্ততা-সব মিলিয়ে এক অনন্য আবহ তৈরি হয় দেশজুড়ে। এবারের ঈদে দীর্ঘ প্রায় ১০ দিনের ছুটি থাকায় আনন্দের মাত্রা আরো বাড়বে-এটাই স্বাভাবিক প্রত্যাশা। মানুষ ফিরে যাবে নাড়ির টানে, প্রিয়জনের সান্নিধ্যে কাটাবে মূল্যবান সময়। যাতায়াতের ভোগান্তিও তুলনামূলকভাবে কম হবে-এতে স্বস্তি ফিরবে জনজীবনে।

তবে ঈদের প্রকৃত সৌন্দর্য কেবল ব্যক্তিগত আনন্দে নয়, বরং সবার সঙ্গে সুখ ভাগাভাগি করার মধ্যেই নিহিত। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সেই অমর বাণী-“আজ ভুলে যা তোর দোস্ত-দুশমন, হাত মিলাও হাতে, তোর প্রেম দিয়ে কর বিশ্বনিখিল ইসলামে মুরিদ, রমজানের ওই রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ”-আমাদের পথ দেখায় সম্প্রীতির। এই ঈদে হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে আমরা যেন একে অপরের পাশে দাঁড়াই, ভালোবাসার হাত বাড়িয়ে দিই।

সমাজের দরিদ্র, অসহায় ও বঞ্চিত মানুষের মুখেও যেন ফুটে ওঠে ঈদের হাসি-এ দায়িত্ব আমাদের সবার। যাদের ঘরে আনন্দের আলো কম, তাদের পাশে দাঁড়ানোই হোক এবারের ঈদের অন্যতম অঙ্গীকার।

বিশ্ব আজ অস্থিরতার ভারে ন্যুব্জ। নানা প্রান্তে যুদ্ধ ও সহিংসতা মানুষের শান্তি কেড়ে নিচ্ছে। এই পবিত্র উৎসবের প্রাক্কালে সবার প্রত্যাশা-বিশ্বজুড়ে যুদ্ধ থেমে যাক, অস্ত্রের ঝনঝনানি স্তব্ধ হোক, প্রতিষ্ঠিত হোক মানবিকতা ও সহমর্মিতার এক শান্তিপূর্ণ বিশ্বসমাজ।

দেশের প্রেক্ষাপটেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ সময়। বহুল প্রত্যাশিত একটি নির্বাচনের পর নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। জনগণের আশা-এই সরকার সফল হোক, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির ধারাকে আরো সুদৃঢ় করুক। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অনিশ্চয়তার পর এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো স্থিতিশীলতা ও শান্তি প্রতিষ্ঠা। গত দেড় বছরের দমবন্ধ পরিস্থিতি কাটিয়ে দেশ যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে পারে-এই প্রত্যাশাও সবার।

ঈদ শেখায় সংযম, সহমর্মিতা ও ঐক্যের শিক্ষা। এই শিক্ষাকে ধারণ করেই সবাই এগিয়ে যাক একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের পথে।

সবশেষে, দৈনিক আজকের প্রত্যাশা পত্রিকার পক্ষ থেকে সকল পাঠক-দর্শক, বিজ্ঞাপনদাতা, সাংবাদিক-প্রতিনিধি ও শুভানুধ্যায়ীসহ সবাইকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আন্তরিক প্রীতি ও শুভেচ্ছা। ঈদ মোবারক।
সানা/আপ্র/২০/৩/২০২৬
 

সংশ্লিষ্ট খবর

রিজিক যখন আল্লাহর হাতে, দুশ্চিন্তা নয় ভরসাই সমাধান
০৩ জুলাই ২০২৬

রিজিক যখন আল্লাহর হাতে, দুশ্চিন্তা নয় ভরসাই সমাধান

রিজিক মানুষের জীবনের অপরিহার্য অংশ। জীবিকা, খাদ্য, অর্থ, স্বাস্থ্য, সন্তান, জ্ঞান ও শান্তিসহ সবকিছুই...

শুরু হলো ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন
০১ জুলাই ২০২৬

শুরু হলো ২০২৭ সালের হজের নিবন্ধন

২০২৭ সালে হজ পালনে আগ্রহীদের জন্য প্রাক-নিবন্ধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। বুধবার (১ জুলাই) থেকে এ কার্যক...

হজ শেষে ফিরেছেন ৬৮২৯৭ বাংলাদেশি
২৭ জুন ২০২৬

হজ শেষে ফিরেছেন ৬৮২৯৭ বাংলাদেশি

পবিত্র হজ পালন শেষে শুক্রবার(২৬ জুন) পর্যন্ত সৌদি আরব থেকে মোট ১৮৮টি ফিরতি ফ্লাইটে ৬৮ হাজার ২৯৭ জন ব...

৬ মাস পর ৪৩ বস্তা টাকা মিললো পাগলা মসজিদের দানবাক্সে
২৭ জুন ২০২৬

৬ মাস পর ৪৩ বস্তা টাকা মিললো পাগলা মসজিদের দানবাক্সে

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স ছয় মাস পর খোলা হয়েছে। সাধারণত তিন থেকে চার মাস পরপর এসব...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই