বিশ্বকাপের পর পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে অবসরের কথা ভেবেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত বদলেছেন তিনি। ৪১ বছর বয়সী এই তারকা জানিয়েছেন, জাতীয় দলকে এখনো মাঠে ও মাঠের বাইরে সাহায্য করার সামর্থ্য রয়েছে তার।
গত বিশ্বকাপে শেষ ষোলো থেকে বিদায় নেয় পর্তুগাল। স্পেনের কাছে হারের পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা ভাবেন রোনালদোও। তবে পর্তুগাল ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি পেদ্রো প্রোয়েনসা ও কোচের সঙ্গে আলোচনার পর জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
জাতীয় দল ছাড়ার কথা ভেবেছিলেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে রোনালদো বলেন, ‘হ্যাঁ, ভেবেছিলাম। আমি সব সময় নিজের সিদ্ধান্ত, ভবিষ্যৎ, এমনকি বর্তমান নিয়েও ভাবি। আমাকে এখন এখানে দেখছেন, এর মানে আমি চালিয়ে যাব।’
জাতীয় দলকে এখনো কিছু দেওয়ার আছে বলেই মনে করেন আল নাসরের এই ফরোয়ার্ড। তিনি বলেন, ‘আমি আমাদের সভাপতি ও কোচের সঙ্গে কথা বলেছি। এখনো বিশ্বাস করি, জাতীয় দলকে তাদের লক্ষ্যে পৌঁছাতে সাহায্য করতে পারব। শুধু গোল করেই নয়, মাঠের বাইরেও দলকে সমর্থন দিতে পারি।’
পর্তুগালের তরুণ প্রজন্মের প্রসঙ্গ টেনে রোনালদো বলেন, মাঠে নেমে গোল করা এবং দলকে জেতাতে সাহায্য করাই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। জাতীয় দল যদি কখনো মনে করে, তাকে আর প্রয়োজন নেই, তাহলে সবার আগে নিজেই সরে দাঁড়াবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সম্প্রতি পর্তুগালের সংবাদমাধ্যমে রোনালদোর পারফরম্যান্স ও দলে তার জায়গা নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ‘আ বোলা’র এক পাঠক জরিপে অনেকেই তাকে পছন্দের একাদশে রাখেননি। তবে এসব সমালোচনায় খুব একটা বিচলিত নন পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
সমালোচকদের প্রসঙ্গে রোনালদো বলেন, পর্তুগালের সমর্থকরা তাকে ভালোবাসেন বলে বিশ্বাস করেন তিনি। তবে কিছু টেলিভিশন চ্যানেল যে তার সমালোচনা করতে পছন্দ করে, সেটিও বোঝেন। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এমন পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ায় বিষয়টি এখন তার কাছে অভ্যাসে পরিণত হয়েছে।
আপাতত জাতীয় দলের হয়ে খেলা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রোনালদো। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী পর্তুগালকে সাহায্য করাই তার লক্ষ্য। মাঠে গোল করে কিংবা সতীর্থদের পাশে থেকে জাতীয় দলের জন্য অবদান রাখতে পারছেন কি না, সেটিই তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
এসি/আপ্র/২৪/৯/২০২৬