চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘নগরীতে জুলাই বিপ্লবের গ্রাফিতি মুছে ফেলার অভিযোগ ডাহা মিথ্যা। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে।’
সোমবার (১৮ মে) বিকাল ৫টায় নগরীর টাইগারপাসে চসিক কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন মেয়র।
এ সময় ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি মুছে ফেলার জন্য তিনি কখনও কোনো নির্দেশ দেননি এবং ভবিষ্যতেও দেবেন না। নগরীর সৌন্দর্যবর্ধনের অংশ হিসেবে চসিকের পরিচ্ছন্নতা বিভাগ নিয়মিতভাবে নির্দিষ্ট সময় পরপর বিভিন্ন পিলার ও দেয়াল থেকে পোস্টার-ব্যানার অপসারণ এবং রঙ করার কাজ করে থাকে। টাইগারপাসসহ যেসব স্থানে রঙ করা হয়েছে, সেখানে মূলত পোস্টার দিয়ে ঢাকা ছিল এবং দৃশ্যমান কোনো গ্রাফিতি ছিল না।
তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্টের চেতনার বিরুদ্ধে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না। আমি নিজে দীর্ঘ ১৭ বছর রাজপথে আন্দোলন করেছি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রামে প্রথম শহীদ ওয়াসিম আকরাম আমারই অনুসারী ছিল।’
মেয়র বলেন, ‘কেউ গ্রাফিতি করতে চাইলে আর্ট কলেজের শিক্ষার্থীদের নিয়ে শৈল্পিক ও মানসম্মত গ্রাফিতি আঁকতে পারে।’ এ ধরনের উদ্যোগে তিনি ব্যক্তিগতভাবে কিংবা সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে অর্থায়নের আশ্বাসও দেন। তিনি বলেন, ‘অপরিচ্ছন্ন হাতের লেখার চেয়ে পরিকল্পিত ও শৈল্পিক গ্রাফিতি শহরের সৌন্দর্য ও ভাবমূর্তি রক্ষা করবে।’
আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসা সহায়তার প্রসঙ্গ তুলে ধরে ডা. শাহাদাত জানান, ৪ আগস্ট যখন অনেক হাসপাতাল আহতদের নিতে অনাগ্রহ দেখিয়েছিল, তখন তিনি নিজ উদ্যোগে ট্রিটমেন্ট এবং হলি হেলথ হাসপাতালে আহতদের ভর্তি করান। এ ছাড়া ৬ আগস্ট চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে আহতদের ৫ হাজার থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। শহীদ পরিবারগুলোকেও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহযোগিতা করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
এনসিপির সাম্প্রতিক বক্তব্য ও কর্মসূচির বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মেয়র বলেন, ‘সামনের নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটা ফায়দা লোটার জন্য এবং ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার জন্যই তারা এই কাজ করছে।’
নিজের মেয়াদের বিষয়ে তিনি জানান, আদালতের নির্দেশে আইনগতভাবে তিনি বৈধ মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন এবং বর্তমান আইনি কাঠামো অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে তিনি দ্রুত একটি অবাধ, সুষ্ঠু, প্রতিযোগিতামূলক ও উৎসবমুখর নির্বাচনের দাবি জানান।
লালখান বাজার এলাকায় গত রাতে সৃষ্ট উত্তেজনাকর পরিস্থিতির প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, ‘সংঘর্ষ এড়াতে তিনি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে কর্মীদের সরিয়ে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, ‘এই শহরটা সবার। আমরা একটি নিরাপদ ও সুন্দর শহর গড়তে চাই। সাংঘর্ষিক কোনো কিছুতে আমরা আগ্রহী নই।’
এর আগে চট্টগ্রামের ওয়াসা থেকে টাইগারপাস পর্যন্ত শহীদ ওয়াসিম আকরাম উড়ালসড়কের পিলারে আঁকা জুলাই গ্রাফিতি সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে মুছে ফেলা হয়। এর প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মহানগর এনসিপি রোববার রাতে জুলাই গ্রাফিতি আকার কর্মসূচি দেয়। তারা সন্ধ্যা ৭টা থেকে বিভিন্ন গ্রাফিতি অংকন করে।
এরপর রাতে সিটি করপোরেশন যাওয়ার সড়কে মেয়র ডা. শাহাদাতকে দায়ী করে ‘ডা. শাহাদাত জুলাইয়ের গাদ্দার’সহ বিভিন্ন কথা লেখা হয়। পরে ছাত্রদলসহ বিএনপির স্থানীয় নেতারা এসে এর প্রতিবাদ করে বিক্ষোভ করেন। এরপর তারা লেখাগুলো মুছে দেন। এই নিয়ে দুই পক্ষ পাল্টাপাল্টি স্লোগান দেয়। পরে পুলিশ এসে দুই পক্ষকে নিবৃত্ত করে।
সানা/কেএমএএ/আপ্র/১৮/৫/২০২৬