দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর পশ্চিমবঙ্গে আবার পশু কেনাবেচার হাট চালুর অনুমোদন দিয়েছে রাজ্য সরকার। নির্দিষ্ট সরকারি বিধি ও নিয়ম মেনে বন্ধ থাকা পশুহাটগুলো পুনরায় চালু করা হবে। গত ২৩ সেপ্টেম্বর নবান্নে অনুষ্ঠিত রাজ্য মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে এ বিষয়ে অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন রাজ্যের আদিবাসী উন্নয়ন ও সংখ্যালঘু কল্যাণবিষয়ক মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু।
মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্তের কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করে ক্ষুদিরাম টুডু জানান, গ্রামীণ মানুষ, কৃষক ও পশুপালকদের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়েই পশু কেনাবেচাকে একটি সুনির্দিষ্ট, স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খল কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন পশুহাট বন্ধ থাকায় গ্রামীণ পশুপালক ও কৃষকদের কেনাবেচা ব্যাহত হচ্ছিল এবং এর প্রভাব পড়ছিল গ্রামীণ অর্থনীতিতেও।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিভিন্ন অনিয়ম ও অবৈধ পশু কারবার ঠেকাতে পশুহাটে প্রশাসনিক নজরদারি ও বিধিনিষেধ জোরদার করা হয়। এর ফলে অনেক পশুহাট বন্ধ হয়ে যায়। সরকারি কর্মকর্তাদের বক্তব্য, নিয়ম ও সরকারি নজরদারি কঠোর করার ফলে অবৈধ কারবার প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। এখন নির্দিষ্ট বিধি মেনে হাট চালু হলে কৃষক ও ক্রেতা উভয়ের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
পশুহাট বন্ধ থাকায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েন গ্রামীণ পশুপালক ও প্রান্তিক কৃষকেরা। পশুপালন যাঁদের আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস, তাঁদের জন্য পশু বিক্রির স্বাভাবিক বাজার সংকুচিত হয়ে যায়। একই সঙ্গে পশু কেনাবেচার সঙ্গে যুক্ত ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও অন্যান্য পেশাজীবীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন।
দক্ষিণবঙ্গের ইলামবাজারের সুখবাজার পশুহাটসহ কয়েকটি ঐতিহ্যবাহী হাট দীর্ঘদিন কার্যত বন্ধ ছিল। হুগলির মায়াপুর পশুহাটেও পশু কেনাবেচা ব্যাহত হয়। পুরুলিয়ার কাশীপুর, বড়টাঁড়, বলরামপুর ও ঝালদার মতো এলাকায় পুরোনো পশুহাটগুলোর কার্যক্রম বন্ধ থাকায় ইজারাদারদেরও লোকসানের মুখে পড়ার কথা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নতুন সিদ্ধান্তে দীর্ঘদিনের এই অচলাবস্থা কাটার আশা করছেন কৃষক, পশুপালক ও পশু ব্যবসায়ীরা। তবে পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে সরকারি বিধি, পশুর স্বাস্থ্যসংক্রান্ত শর্ত এবং অবৈধ কারবার প্রতিরোধে নজরদারি বজায় রাখার ওপরই গুরুত্ব দেওয়া হবে।
সানা/আপ্র/২৭/৯/২০২৬