যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানতে সক্ষম আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য এশিয়া সফরে কিমের সঙ্গে বৈঠকের ইঙ্গিত দেওয়ার পরদিনই এই সামরিক প্রদর্শনী সামনে এলো। বিশ্লেষকদের ধারণা, সম্ভাব্য শীর্ষ বৈঠকের আগে নিজেদের সামরিক সক্ষমতা তুলে ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা আদায়ের চেষ্টা করছে পিয়ংইয়ং।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন ও ছবিতে কিমের নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প জাদুঘর পরিদর্শনের তথ্য উঠে আসে। রোববার উদ্বোধন হওয়া ‘জাতীয় প্রতিরক্ষা বিপ্লব জাদুঘর’ পরিদর্শনের সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রি সোল জু ও মেয়ে জু আয়ে। দেশটির ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠার ৮১তম বার্ষিকী উপলক্ষে জাদুঘরটির উদ্বোধন করা হয়।
জাদুঘরে কিমের শাসনামলে তৈরি বিভিন্ন অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম প্রদর্শন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হোয়াসং-২০ আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, চালকবিহীন আকাশযান, ডুবোজাহাজ থেকে নিক্ষেপযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র, অতিধ্বনির ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৬০০ মিলিমিটার ব্যাসের বৃহৎ একাধিক রকেট নিক্ষেপব্যবস্থা। প্রদর্শনীতে হোয়াসং-১৭ আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্রও রাখা হয়েছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার কোরিয়া প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা ফোরামের মহাসচিব শিন জং-উ বলেন, হোয়াসং-২০ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎক্ষেপণযানের সামনে রাখা প্রদর্শনীতে একাধিক ওয়ারহেড বহনের নকশা এবং একটি বিশ্বমানচিত্র দেখা গেছে। মানচিত্রে ক্ষেপণাস্ত্রটির সম্ভাব্য পাল্লা যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ড ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্য, অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আমেরিকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।
শিনের মতে, কিমের প্রতিরক্ষা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উন্নয়ন কর্মসূচির সাফল্য তুলে ধরতেই এই আয়োজন করা হয়েছে। সম্ভাব্য উত্তর কোরিয়া-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ বৈঠকের আগে এটি নিজেদের সামরিক সক্ষমতা প্রদর্শন এবং আলোচনায় সুবিধাজনক অবস্থান তৈরির কৌশলও হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামরিক অস্ত্রের অস্থায়ী প্রদর্শনীকে স্থায়ী জাদুঘরে রূপ দেওয়ার মাধ্যমে কিম তাঁর শাসনামলের সামরিক অর্জনকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাইছেন। কিয়ুংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরপ্রাচ্য অধ্যয়ন ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক লিম উল-চুল বলেন, এ ধরনের জাদুঘরের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়ার পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী অর্জন হিসেবে তুলে ধরছেন কিম।
এদিকে ট্রাম্প আগামী নভেম্বরের মাঝামাঝি চীনে অনুষ্ঠেয় এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্মেলনে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। ওই সফরে কিমের সঙ্গে বৈঠক হতে পারে কি না, এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেছেন, তিনি বৈঠক করতে পারেন। ফলে দুই দেশের মধ্যে আবারো শীর্ষ পর্যায়ের আলোচনা শুরুর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে।
তবে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে উত্তর কোরিয়ার এই সামরিক প্রদর্শনীকে কেবল অস্ত্রের শক্তি প্রদর্শন নয়, সম্ভাব্য কূটনৈতিক আলোচনার আগে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার উদ্যোগ হিসেবেও দেখছেন পর্যবেক্ষকেরা। সূত্র: আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম
সানা/ডিসি/আপ্র/১৩/১০/২০২৬