যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি চুক্তির মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ইরানকে যে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন তা প্রত্যাখ্যান করেছে তেহরান। আল জাজিরা জানিয়েছে, ওই আল্টিমেটামে ইরান তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়ে পাল্টা বিবৃতি দিয়ে একে ‘উদ্বিগ্ন ও অসহায়’ ট্রাম্পের বাগাড়ম্বর বলে উল্লেখ করেছে।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের কমান্ডার মেজর জেনারেল আলি আবদুল্লাহি রোববার (৫ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বলেছেন, যদি আমেরিকান ও জায়নবাদী শত্রুরা আগ্রাসন চালায়, তাহলে আমরা অবিরাম ধ্বংসাত্মক প্রতিশোধমূলক হামলা চালাবো।
ইরানের সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় সদরদপ্তরের মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইব্রাহিম জোলফাগরি সতর্ক করে বলেছেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসন বিস্তৃত হয় তাহলে তোমাদের জন্য পুরো অঞ্চল নরক হয়ে উঠবে।
ট্রাম্পের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যদি ইরানে হামলা আরো তীব্র করে তোলে তাহলে ইসরায়েলের পাশাপাশি মার্কিন ঘাঁটি ও বিনিয়োগ থাকা মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোর স্থাপনাগুলোতেও একই ধরনের ধ্বংসাত্মক হামলা হবে, মূলত এমন হুমকিই দিয়েছে ইরান। ইরানের এই সামথ্র্য আছে বলে দাবি করেছে তারা। তেহরান আরো বলেছে, ইতোমধ্যেই আমেরিকান ও ইসরায়েলিদের ওপর যন্ত্রণা চাপিয়ে দেওয়ার সক্ষমতার প্রমাণ দিয়েছে তারা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শনিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানকে একটি চু্ক্িতর মাধ্যমে যুদ্ধ শেষ করার জন্য ফের ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেন । তেহরানের সময় শেষ হয়ে যাচ্ছে বলে হুঁশিয়ারও করেন তিনি। ইরান যদি এই সময়সীমার মধ্যে একটি চুক্তি করতে ব্যর্থ হয় বা গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালি খুলে না দেয় তাহলে দেশটিতে আরো তীব্র হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন তিনি। এর আগে মার্চেও ইরানকে একটি চুক্তি করে যুদ্ধ শেষ করার ও হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু ওই সময়সীমা পার হওয়ার আগেই ইরানকে আরো ১০ দিন সময় দেন তিনি। এবার ওই ১০ দিনের শেষ ৪৮ ঘণ্টা পার হওয়া শুরু হয়েছে। শনিবার নিজের সামাজিক মাধ্যমে ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প বলেন, স্মরণ করুন যখন আমি ইরানকে একটি চুক্তি করার জন্য অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য ১০ দিন সময় দিয়েছিলাম। সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে- তাদের ওপর নরক নেমে আসার আগে ৪৮ ঘণ্টা আছে। ঈশ্বরের গৌরব হোক! ৬ এপ্রিল, সোমবার ওয়াশিংটন ডিসির স্থানীয় সময় রাত ৮টায় এই সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ শুরু হয়। যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ট্রাম্প মিশ্র বার্তা দিয়ে আসছেন। একবার কূটনৈতিক অগ্রগতির ইঙ্গিত দিচ্ছেন তো কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বোমা মেরে ইরানকে ‘প্রস্তরযুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন। ট্রাম্পের সর্বশেষ আল্টিমেটামের পর ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়টার্সকে জানান, ইরানের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোতে হামলা চালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরায়েল আর যুক্তরাষ্ট্রের অনুমোদনের অপেক্ষা করছে। চলতি সপ্তাহেই এ ধরনের হামলাগুলো চালানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি। তার দাবিগুলো মানা না হলে ইরানের বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলো উড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
সানা/আপ্র/৫/৪/২০২৬