প্রথমার্ধের বিবর্ণতা কাটিয়ে বিরতির পর আক্রমণে জোর দিয়েছিল ইতালি। কিন্তু ফিনিশিংয়ের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি তারা। বরং পরে আরও একটি গোল করে জয় তুলে নেয় বেলজিয়াম। রোমে শুক্রবার ইতালিকে ২-০ গোলে হারিয়ে উয়েফা নেশন্স লিগে পথচলা শুরু করেছে বেলজিয়াম। মিকা গটস দলকে এগিয়ে নেওয়ার পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দদি লুকেবাকিও।
দুই দলের ডাগআউটেই ছিল নতুন মুখ। গত বিশ্বকাপের কোয়ার্টার-ফাইনাল থেকে বিদায় নেওয়া বেলজিয়াম মার্ক ফন বোমেলের কোচিংয়ে শুভসূচনা করেছে। অন্যদিকে ইতালির কোচের পদে দ্বিতীয় মেয়াদে ফেরা রবের্তো মানচিনির শুরুটা হয়েছে হতাশায়। পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে খেলতে নেমে বেশ ভালোই ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে টানা তিনটি বিশ্বকাপে খেলতে না পারা ইতালি।
প্রায় ৫৫ শতাংশ সময় বল দখলে রেখে গোলের জন্য ২১টি শট নেয় তারা, যার ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। কিন্তু একবারও সফল হতে পারেনি। বেলজিয়ামের ১৯ শটের আটটি ছিল লক্ষ্যে। ‘এ’ লিগের এক নম্বর গ্রুপের ম্যাচে শুরুতেই প্রতিপক্ষের বুকে আঘাত হানতে পারত বেলজিয়াম।
তবে সপ্তম মিনিটে শার্লে ডে কেটলারের নিচু শট ঝাঁপিয়ে আটকে দেন জানলুইজি দোন্নারুম্মা। ১৮তম মিনিটে ইতালিও একটি সুযোগ পায়। তবে মোইজে কিনের শটে গতি কম থাকায় সেটি আটকাতে তেমন বেগ পেতে হয়নি সানা লমেন্সকে।
এরপরই দেখা মেলে দারুণ এক গোলের। ২০তম মিনিটে বল পায়ে একজনকে কাটিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে আরেকজনের চ্যালেঞ্জ সামলে জায়গা বানিয়ে জোরাল শটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন মিকা গটস। জাতীয় দলের হয়ে তৃতীয় ম্যাচেই গোলের খাতা খুললেন এই মিডফিল্ডার।
এগিয়ে গিয়ে আরও আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে বেলজিয়াম। একের পর এক আক্রমণ করতে থাকে তারা। পরের কয়েক মিনিটে ভালো কয়েকটি সুযোগও পায় দলটি। তবে দারুণ নৈপুণ্যে ব্যবধান বাড়তে দেননি দোন্নারুম্মা।
২৩তম মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে থেকে ডে কেটলারের জোরাল শট ঝাঁপিয়ে রুখে দেন দোন্নারুম্মা। ফিরতি বল ফাঁকায় পেয়ে শট নেন নিকোলাস রাসকিন, সেটিও আটকে দেন তিনি। চার মিনিট পর আবারও ভীতি ছড়ায় বেলজিয়াম। এবার দুরূহ কোণ থেকে গটসের হেড দারুণ ক্ষিপ্রতায় এক হাত দিয়ে ঠেকান দোন্নারুম্মা।
প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে কঠিন কোনো পরীক্ষায় ফেলতে না পারা ইতালি বিরতির পর যেন নতুন রূপে ধরা দেয়। টানা বেশ কয়েকটি গোছানো আক্রমণ শাণায় তারা। ৪৭তম মিনিটে কিনের কোনাকুনি শট পা দিয়ে আটকান লমেন্স। এরপর ফ্রান্সেসকো এসপোসিতোর হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
দুই মিনিট পর আবার সুযোগ পান ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকার। এবার তার হেড ঠেকান লমেন্স। বেশিরভাগ সময় বলের দখল রেখে আক্রমণে জোর দিলেও ৬৯তম মিনিটে উল্টো আরও পিছিয়ে পড়ে ইতালি।
দুইজনকে কাটিয়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে জোরাল শটে গোলটি করেন ১০ মিনিট আগে বদলি হিসেবে নামা লুকেবাকিও। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এই উইঙ্গারের এটি সপ্তম গোল। বাকি সময়েও প্রতিপক্ষের ডি-বক্সে বেশ কয়েকবার ভীতি ছড়ায় ইতালি। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর মতো কিছুই করতে পারেনি তারা।
ডিসি/আপ্র/২৬/০৯/২০২৬