টেস্ট ক্রিকেটের বিশ্ব আসরে বড় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। আগামী চক্র থেকে বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে (ডব্লিউটিসি) দলের সংখ্যা বাড়ানোর কথা ভাবছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে বাংলাদেশসহ টেস্ট খেলা ১২টি দেশই জায়গা পেতে পারে প্রতিযোগিতাটিতে। বর্তমানে ডব্লিউটিসিতে অংশ নেয় ৯টি দল। টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর মধ্যে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তান এখনো এই প্রতিযোগিতার বাইরে।
পরবর্তী চক্রে তাদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাই দলের সংখ্যা ১২-তে নেওয়ার অন্যতম কারণ। ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার প্রধান নির্বাহী টড গ্রিনবার্গ জানিয়েছেন, ১২ দলের কাঠামোই পরবর্তী চক্রের জন্য কার্যকর হতে পারে। তার মতে, টেস্ট খেলুড়ে প্রতিটি দেশকে ডব্লিউটিসির আওতায় আনার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।
বাংলাদেশের জন্যও এটি হতে পারে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন। বর্তমানে ডব্লিউটিসির নিয়মিত অংশগ্রহণকারী দল বাংলাদেশ। নতুন কাঠামো চালু হলে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের অবস্থান বদলাবে না। তবে দলসংখ্যা বাড়ার কারণে সূচি, প্রতিপক্ষ ও পয়েন্টের সমীকরণে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে ১২ দলের ডব্লিউটিসি চালু করা সহজ হবে না।
টেস্ট ক্রিকেট আয়োজনের বড় আর্থিক ব্যয় নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা চলছে। বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তানের মতো দলগুলোর জন্য দীর্ঘ টেস্ট সূচি সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে। গ্রিনবার্গের মতে, টেস্ট ক্রিকেট আয়োজন শুধু ম্যাচের খরচের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
একটি দলকে টেস্ট খেলার উপযোগী করে তুলতে খেলোয়াড় তৈরি, অবকাঠামো ও দীর্ঘমেয়াদি প্রশিক্ষণেও বড় বিনিয়োগ প্রয়োজন। ফলে পর্যাপ্ত আয় ছাড়া নিয়মিত টেস্ট আয়োজন অনেক দেশের জন্য কঠিন হয়ে উঠতে পারে। এই বাস্তবতায় ভবিষ্যতে টেস্ট সিরিজের ধরনেও পরিবর্তন আসতে পারে। ১২ দলের ডব্লিউটিসি চালু হলে জিম্বাবুয়ে, আয়ারল্যান্ড ও আফগানিস্তানকে এক ম্যাচের সিরিজ খেলতে দেখা যেতে পারে।
বর্তমানে ডব্লিউটিসিতে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে সিরিজে সাধারণত একাধিক টেস্ট থাকে। গ্রিনবার্গ আরও সতর্ক করেছেন, আর্থিক সংকটের কারণে ভবিষ্যতে কিছু পূর্ণ সদস্য দেশও নিজেদের মাঠে টেস্ট আয়োজনের সক্ষমতা হারাতে পারে।
এমনকি নিজেদের দেশে কম এবং বিদেশে বেশি টেস্ট খেলার মতো পরিস্থিতিও তৈরি হতে পারে বলে মনে করেন তিনি। তাই বাংলাদেশসহ টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলোর জন্য ডব্লিউটিসির পরবর্তী চক্র শুধু প্রতিযোগিতার পরিধি বাড়ার বিষয় নয়, বরং টেস্ট ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ কাঠামো কেমন হবে সেটিও নির্ধারণ করতে পারে।
wWwm/AvcÖ/07/10/2026