বিশ্বের সবচেয়ে সরু চলনসই গাড়ি তৈরি করে বিশ্ব রেকর্ড গড়েছেন ইতালির গাড়ির মেকানিক আন্দ্রেয়া মারাজ্জি। গাড়িটির প্রস্থ মাত্র ৫০ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার-অর্থাৎ প্রায় ২০ ইঞ্চি। চার চাকার এই গাড়িটি এতটাই সরু যে সাধারণ একটি দরজা দিয়েও ঘরের ভেতরে নেওয়া সম্ভব। তবে দৈর্ঘ্য প্রায় ১১ ফুট।
মারাজ্জির তৈরি গাড়িটির নাম ‘পান্ডা পার উনো’। এটি মূলত ১৯৯৩ সালের একটি পুরোনো ফিয়াট পান্ডা গাড়িকে পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ২১ জুন ইতালির বাগনোলো ক্রেমাসকোতে গাড়িটির প্রস্থ মেপে বিশ্ব রেকর্ডটি যাচাই করা হয়।
গিনেস বিশ্ব রেকর্ডসের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মারাজ্জির পরিবারের গাড়ি ভাঙার প্রতিষ্ঠানে একটি পুরোনো ফিয়াট পান্ডা আসে। গাড়িটি ভেঙে যন্ত্রাংশ আলাদা করে ফেলার কথা থাকলেও সেটিকে নতুন জীবন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। ইতালির প্রাচীন শহরগুলোর সরু রাস্তায় চলাচলের উপযোগী ফিয়াট পান্ডার ছোট আকারই তাঁকে আরো সরু একটি গাড়ি তৈরির ধারণা দেয়।
মারাজ্জি কয়েক বছর ধরে পান্ডা গাড়িপ্রেমীদের একটি বিশেষ আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত। সেই আয়োজনের জন্য ব্যতিক্রমী কিছু তৈরির পরিকল্পনা থেকেই ‘পান্ডা পার উনো’ তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি।
গাড়িটি সরু করতে প্রথমে এর দরজা ও দুই পাশের প্যানেল খুলে ফেলা হয়। এরপর গাড়ির মাঝখানের কাঠামো কেটে দুই পাশকে আবার জোড়া দেওয়া হয়। কাজটির সবচেয়ে কঠিন অংশ ছিল কাঠামোটি এমনভাবে কাটা ও জোড়া দেওয়া, যাতে দুই পাশ পুরোপুরি সমান থাকে। সামান্য অসমতা থাকলেও গাড়িটির কাঠামো ঠিক রাখা কঠিন হতো।
এরপর বনেট, ছাদ ও পেছনের দরজার জন্য নতুন করে কাঠামো ও জানালা তৈরি করা হয়। তবে পুরো গাড়িটি নতুন করে বানানো হয়নি। ‘পান্ডা পার উনো’র প্রায় ৯০ শতাংশ অংশই পুরোনো ফিয়াট পান্ডা থেকে নেওয়া।
গাড়িটি শুধু প্রদর্শনীর জন্য তৈরি করা হয়নি, এটি চালানোও যায়। এতে ছোট বৈদ্যুতিক মোটর ও ব্যাটারি রয়েছে। গাড়ির স্টিয়ারিং ব্যবস্থাও আকারে ছোট করা হয়েছে। হেডলাইট ও দিকনির্দেশক বাতিও কার্যকর রয়েছে।
তবে এর গতি খুব বেশি নয়। সর্বোচ্চ ঘণ্টায় ১৫ কিলোমিটার বেগে চলতে পারে গাড়িটি। সরু কাঠামোর কারণে বাঁক নেওয়ার সময় এটি খুব একটা স্থিতিশীল নয়। তাই দ্রুতগতিতে চালানোর উপযোগীও নয়।
অদ্ভুত আকৃতির হলেও গাড়িটির মূল উদ্দেশ্য ছিল পুরোনো একটি গাড়িকে ফেলে না দিয়ে সৃজনশীল প্রকৌশলের মাধ্যমে নতুন রূপ দেওয়া। সেই ব্যতিক্রমী উদ্যোগই শেষ পর্যন্ত আন্দ্রেয়া মারাজ্জিকে তুলে দিয়েছে বিশ্ব রেকর্ডের পাতায়।
সানা/ডিসি/আপ্র/২২/৯/২০২৬