গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মেনু

এক তৃতীয়াংশ খরচ ভারতের

বিএমইউতে মাসে দুটি লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১:৩৫ পিএম, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | আপডেট: ২২:৪৪ এএম ২০২৬
বিএমইউতে মাসে দুটি লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা
ছবি

বিএমইউ, ভারতের অর্ধেক ‘খরচে’ মাসে দুটি লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের পরিকল্পনা জানালেন বিএমইউ উপাচার্য

বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে এখন থেকে মাসে দুটি করে লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. এফ এম সিদ্দিকী। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপন সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এ ধরনের অস্ত্রোপচারে আশপাশের দেশগুলোর তুলনায় অনেক কম খরচ হচ্ছে। ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের তহবিল থেকে এসব অস্ত্রোপচার বিনামূল্যে করার কথাও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের লেকচার কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান উপাচার্য।

অধ্যাপক এফ এম সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে আরো চারটি লিভার প্রতিস্থাপনের জন্য রোগী নির্বাচন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে। আগামী ১০ থেকে ১২ অক্টোবরের মধ্যে আরো দুটি লিভার প্রতিস্থাপনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। এখন থেকে মাসে দুটি এবং বছরে ২৪টি লিভার প্রতিস্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।

অস্ত্রোপচারের খরচের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আশপাশের দেশগুলোতে সব মিলিয়ে একটি লিভার প্রতিস্থাপনে প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়। সেখানে বিএমইউর সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকায় এ অস্ত্রোপচার করা সম্ভব হচ্ছে। আগের ছয়টি প্রতিস্থাপনের খরচ সরকার বহন করেছে বলেও জানান তিনি। ২০২৭ সাল পর্যন্ত সরকারের তহবিল থেকে এ ধরনের অস্ত্রোপচার বিনামূল্যে করার পরিকল্পনা রয়েছে।

ছয়টি প্রতিস্থাপন সফল: উপাচার্য জানান, বিএমইউতে প্রথম ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপনের মধ্যে দুটি হয়েছে ২০২৫ সালের ১ ও ২ সেপ্টেম্বর। চলতি বছরের ৩ ও ৪ জুলাই এবং ১১ ও ১২ সেপ্টেম্বর আরো চারটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের লিভার প্রতিস্থাপন ক্লিনিকের মাধ্যমে এসব রোগীর ফলোআপ চিকিৎসা চলছে।

এর আগে ২০১৯ ও ২০২৩ সালে বিএমইউতে একটি করে লিভার প্রতিস্থাপন হলেও কার্যক্রমটি ধারাবাহিক ছিল না। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে নতুন কর্মপরিকল্পনা নেওয়ার পর নিয়মিতভাবে লিভার প্রতিস্থাপন কার্যক্রম শুরু হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।

ডোনার নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, মানবদেহে অঙ্গ প্রতিস্থাপন আইন অনুযায়ী আর্থিক লেনদেন ও অনিয়ম ঠেকাতে একাধিক ধাপে ডোনার ও গ্রহীতার সম্পর্ক, চিকিৎসাগত উপযুক্ততা এবং প্রয়োজনীয় নথি যাচাই করা হয়। সব প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর হাসপাতালের একটি বোর্ডও বিষয়গুলো পুনরায় যাচাই করে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন সময় হাসপাতালের কমিটি ডোনারের পরিচয়, উৎপত্তি ও পারিবারিক সম্পর্ক যাচাই করে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট এলাকার চেয়ারম্যান, কাউন্সিলর ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়, যাতে কোনো আর্থিক লেনদেন বা অনিয়ম না থাকে।

প্রস্তুতিতে দীর্ঘ সময় লাগে: মাসে দুটি লিভার প্রতিস্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণের বিষয়ে উপাচার্য বলেন, একজন দাতা ও একজন গ্রহীতাকে প্রস্তুত করতে দীর্ঘ সময় লাগে। চিকিৎসাগত মিল, আইনগত অনুমোদন, মানসিক প্রস্তুতি এবং বড় ধরনের লজিস্টিক সমন্বয় ছাড়া একটি প্রতিস্থাপন সম্ভব নয়।

তিনি বলেন, এ ধরনের সফল অস্ত্রোপচার কোনো একজন সার্জনের সাফল্য নয়। সার্জন, হেপাটোলজিস্ট, অ্যানেসথেটিস্ট, নার্স, রেসিডেন্ট চিকিৎসক ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ দলের সমন্বিত প্রচেষ্টায় এটি সম্ভব হয়েছে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে অধ্যাপক সিদ্দিকী বলেন, দ্রুতই বিএমইউতে এ অস্ত্রোপচারে শতভাগ বিশেষজ্ঞ সার্জন তৈরি করা সম্ভব হবে। তারা পরবর্তী সময়ে দেশের বিভিন্ন চিকিৎসাকেন্দ্রে এ ধরনের সফল অস্ত্রোপচার করতে পারবেন। দেশে লিভার প্রতিস্থাপনের প্রচুর চাহিদা থাকলেও এ বিষয়ে মানুষের মধ্যে এখনো পুরোপুরি আস্থার জায়গা তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বিদেশের কিছু প্রতিস্থাপনকেন্দ্রের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, অনেক কেন্দ্র সফলতার হার ঠিক রাখার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ রোগীর অস্ত্রোপচার করে না। তবে বিএমইউ দেশের মানুষের স্বার্থে শুধু সফলতার হার বাড়ানোর দিকে নয়, সেবা দেওয়ার দিকেও গুরুত্ব দেবে।

বিএমইউ জানিয়েছে, ছয়টি লিভার প্রতিস্থাপনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯টি বিশেষায়িত বিভাগ অংশ নিয়েছে। এতে ভারতের হায়দ্রাবাদের এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ দল কারিগরি সহযোগিতা দিয়েছে।

মায়ের লিভার দিয়ে সুস্থ জোৎসা: সম্প্রতি সফলভাবে লিভার প্রতিস্থাপন করা গৃহিণী জোৎসা বেগম বর্তমানে সুস্থভাবে চলাফেরা করছেন। তাঁর ছেলে মো. সাজ্জাদ মায়ের দাতা হিসেবে লিভারের অংশ দেন।

সাজ্জাদ বলেন, অস্ত্রোপচারের পরও তিনি বিশ্বাস করতে পারছিলেন না যে বাংলাদেশে এ ধরনের চিকিৎসা সম্ভব। তাঁর মা এখন সুস্থভাবে জীবনযাপন করছেন। অস্ত্রোপচারের জন্য তাঁদের প্রায় এক মাস হাসপাতালে থাকতে হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. সাইফ উল্লাহ মুন্সী, লিভার প্রতিস্থাপন সার্জন অধ্যাপক ডা. বিধান চন্দ্র দাস, বিএমইউর অধ্যাপক ডা. সাইফ উদ্দিন আহমেদ, অধ্যাপক ডা. মো. শাহিনুল আলমসহ প্রতিস্থাপন কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
সানা/আপ্র/২২/৯/২০২৬

 

সংশ্লিষ্ট খবর

সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সরকারি হাসপাতালের সামনে কোনো ক্লিনিকের অনুমোদন দেওয়া হবে না

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বিগত সরকারের আমলে ব্যাঙের ছাতার মতো ডায়াগনস্টিক সে...

হাম-ডেঙ্গু-মৌসুমি জ্বরে বিপর্যস্ত হাসপাতাল, বাড়ছে রোগীর চাপ
২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম-ডেঙ্গু-মৌসুমি জ্বরে বিপর্যস্ত হাসপাতাল, বাড়ছে রোগীর চাপ

দেশে একদিকে প্রায় ছয় মাস ধরে চলা হামের প্রাদুর্ভাব, অন্যদিকে দ্রুত বাড়তে থাকা ডেঙ্গু। এর সঙ্গে যুক্ত...

মলত্যাগে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মলত্যাগে অতিরিক্ত দুর্গন্ধ হওয়ার কারণ

স্বাস্থ্য প্রতিদিন===

হাম উপসর্গে প্রাণ গেলো আরো ৬ শিশুর
২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম উপসর্গে প্রাণ গেলো আরো ৬ শিশুর

গত ২৪ ঘন্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ছয় শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাত...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

কোনো সক্রিয় জরিপ নেই