অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার পক্ষে বক্তব্য দেওয়া জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে দাবি করেছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, জনগণের কাছে বারবার খোলস বদলে পার পাওয়া যাবে না।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর মিরপুর-১২ থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রোরেলের পিলারে জুলাইয়ের চিত্রাঙ্কন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, অটোরিকশা চালকদের দাবি সরকারের মেনে নেওয়া উচিত। এটি হাস্যকর বক্তব্য। পরে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ওই নেতার ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে বলে জানা গেছে। জনগণের কাছে খোলস বদলে বারবার পার পাওয়া যাবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে গত ৫ অক্টোবর জামায়াত নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছিলেন, অটোরিকশা চালকদের দাবিগুলো সরকারের মেনে নেওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন।
স্বাধীনতা মানে স্বেচ্ছাচারিতা নয় মন্তব্য করে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, বিএনপি সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্র ও স্বাধীন বাংলাদেশ উপহার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তবে তার অর্থ এই নয় যে, যে যার ইচ্ছামতো কাজ করবে।
তিনি বলেন, অটোরিকশা আন্দোলনের নামে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সেদিন দেখা গেছে। অটোরিকশার পক্ষে আন্দোলনে রাস্তায় নামার মতো বাংলাদেশের একজন মানুষও নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, সেদিন কারা উপস্থিত ছিলেন, তা ইতিমধ্যে প্রকাশ পেয়েছে। বড় দাড়ি, মাথায় টুপি এবং পাশে তীর চিহ্নের মাধ্যমে তাঁদের রাজনৈতিক পরিচয় বোঝা গেছে বলে মন্তব্য করেন শফিকুল।
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তিনি আরো বলেন, একটি রাজনৈতিক দল ফুটপাতের দোকানিদের ডেকে এনে ‘অনৈতিক কাজে’ উৎসাহিত করার চেষ্টা করছে। এ বিষয়ে তাঁদের কাছে প্রয়োজনীয় নথিপত্র ও তথ্য রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাজধানীর মিরপুরে ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন। দোকান সরানোর সময় ভেকুর আঘাতে বৈদ্যুতিক তার ছিঁড়ে আগুন ধরে যায়। এরপর হকারদের সঙ্গে পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের কর্মীদের সংঘর্ষ হয়। এ সময় ময়লার তিনটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের গাড়ি, ভেকু ও কয়েকটি বাস ভাঙচুর করা হয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগও ওঠে। ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার বিষয়ে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, সেদিনই তিনি ঘোষণা দিয়েছিলেন, কেউ ফুটপাত নিয়ে তালবাহানা করলে বা আবার দখলের চেষ্টা করলে তাঁর লাশের ওপর দিয়ে তা করতে হবে।
শুক্রবারও নগরবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, কেউ নতুন করে ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করতে তিনি প্রস্তুত রয়েছেন।
দখলমুক্ত ফুটপাতের পরিস্থিতি তদারকিতে একটি পর্যবেক্ষণ দল গঠন করা হয়েছে জানিয়ে ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, দলের সদস্যরা প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নজরদারি করছেন। ঢাকা শহরের প্রতিটি এলাকার ফুটপাত দখলমুক্ত করা হবে বলেও জানান তিনি।
সানা/আপ্র/৯/১০/২০২৬