রাজধানীর মিরপুরে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড জোরপূর্বক নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, প্রতিটি গাড়ি থেকে ৩০০ টাকা করে চাঁদা দাবি এবং মালিকদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে বৃহত্তর মিরপুর লেগুনা মালিক-শ্রমিক ইউনিয়ন।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপতি মো. ইয়াকুব আলী।
ইয়াকুব আলী বলেন, গত ৫ অক্টোবর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে অস্ত্র প্রদর্শন ও ভয়ভীতি দেখিয়ে মিরপুরের ১ নম্বর সেকশনের পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এস এ সিদ্দিক সাজুর সমর্থক ও সহযোগী হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বিপ্লব, সোলেমান দেওয়ান, ফারুক হোসেন, মহাব্বত আলী, মাভেল ভূঁইয়া, তৈয়ব আলী, আলমগীর হোসেন, শামীম ও মজিবর রহমানসহ প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন স্ট্যান্ড দখল এবং ফুটপাত থেকে চাঁদা দাবির সঙ্গে জড়িত বলে তাদের অভিযোগ।
সংগঠনটির দাবি, লেগুনার মালিকদের কাছে প্রতিটি গাড়ির জন্য ৩০০ টাকা করে চাঁদা চাওয়া হচ্ছে। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের ভয়ভীতি দেখানো ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এ ছাড়া লেগুনার মালিক ইয়াকুব আলী, নজরুল ইসলাম ও বাবুলের ওপর হামলার অভিযোগও করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ইয়াকুব আলীর শরীরে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত কাগজপত্র ও প্রতিবেদন সংগঠনের কাছে রয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
হামলার বিষয়ে অভিযোগ জানাতে দারুস সালাম থানায় গেলে ইয়াকুব আলীর অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়। এর আগে তাঁর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ আনা হলেও পরবর্তী সময়ে আদালতের কার্যক্রম শেষে তিনি মুক্তি পান বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়।
ইয়াকুব আলী বলেন, ঘটনার ভিডিও ফুটেজ, চিকিৎসাসংক্রান্ত নথি ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ তাঁদের কাছে রয়েছে। এসব নিরপেক্ষ তদন্তকারী সংস্থার কাছে উপস্থাপন করতে তাঁরা প্রস্তুত। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, সিসিটিভি ফুটেজ ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের দাবি জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচটি লেগুনা স্ট্যান্ড দখলের অভিযোগ তদন্ত, হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতার, চাঁদা দাবি ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং থানায় অভিযোগ গ্রহণ না করার বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানানো হয়। পাশাপাশি লেগুনার মালিক ও চালকদের নিরাপদে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো রাজনৈতিক পরিচয় বা সামাজিক প্রভাব যেন তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে না পারে। সংঘাত বা প্রতিশোধ নয়, বরং নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রমাণভিত্তিক সিদ্ধান্ত এবং আইনের যথাযথ প্রয়োগ চান তাঁরা।
সানা/আপ্র/৯/১০/২০২৬