সুর, নৃত্য, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর ‘শরৎ উৎসব-১৪৩৩’। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৯টায় রাজধানীর সীমান্ত গ্রন্থাগার প্রাঙ্গণের পুরোনো সাহারা মঞ্চে শুরু হয় দিনব্যাপী এ আয়োজন।
যন্ত্রসংগীতশিল্পী শামীম জহিরের সরোদ বাদনের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। এরপর শিশুদের পরিবেশনা, একক ও দলীয় সংগীত, নৃত্য, আবৃত্তি এবং আলোচনা পর্বে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল।
উদ্বোধনী পর্ব শেষে শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিযোগিতার বিষয় ছিল ‘শরৎ ঋতু’।
অনুষ্ঠানে একক সংগীত পরিবেশন করেন মহাদেব ঘোষ, অনিমা রায়, ফেরদৌসী কাকলি, রত্না সরকার, মাহমুদুল হাসান, সঞ্জয় কবিরাজ, নবনীতা জাহিদ চৌধুরী অনন্যা, শ্রাবণী গুহ রায়, তামান্না নিগার তুলি, এস এম মেজবা ও শান্তা সরকার। একক আবৃত্তি পরিবেশন করেন নাইলা তারান্নুম চৌধুরী কাকলি ও বেলায়েত হোসেন।
দলীয় পরিবেশনায় অংশ নেয় শিশু-কিশোর সংগঠন সীমান্ত খেলাঘর আসর, গেণ্ডারিয়া কিশলয় কচি-কাঁচা মেলা, সুরবিহার ও শিল্পবৃত্ত। এ ছাড়া নৃত্য পরিবেশন করে নৃত্যফ, স্পন্দন, স্বপ্ন বিকাশ কলা কেন্দ্র ও অংশী। দলীয় সংগীত পরিবেশন করেন আয়োজক সংগঠন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী, নির্ঝরিণী একাডেমি ও সুরনন্দনের শিল্পীরা।
উৎসবের ‘শরৎ কথন’ পর্বে আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন অভিনেতা মামুনুর রশীদ। তিনি বলেন, ছোটবেলায় সবাইকে নিয়ে মেলামেশা ও উৎসব উদযাপনের যে পরিবেশ ছিল, মানুষ এখন তা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। যেকোনো উৎসবের মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত সবাইকে এক করা এবং মনের কথাগুলো সবার সামনে তুলে ধরা।
মামুনুর রশীদ বলেন, সুর ও চেতনায় ঐক্য থাকলেই মানুষ সবার আপন হতে পারে। তা না হলে সমাজে কেবল দূরত্ব বাড়ে।
শিশুদের পরিবেশনা দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, তাদের নাচ, গান ও চমৎকার উপস্থাপনা তাঁকে আবার শৈশবে ফিরিয়ে নিয়ে গেছে। পুরো আয়োজন দেখে তাঁর মনে হয়েছে, যেন এক টুকরো শরৎ নেমে এসেছে উৎসব প্রাঙ্গণে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সমাজসেবক মোরশেদ আহমেদ চৌধুরী এবং স্থানীয় সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠক বীর মুক্তিযোদ্ধা শফিউর রহমান দুলু।
স্বাগত বক্তব্য দেন এবং ঘোষণাপত্র পাঠ করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মানজার চৌধুরী সুইট। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠীর সহসভাপতি, লেখক, গবেষক ও নৃত্যশিল্পী অধ্যাপক নিগার চৌধুরী।
সানা/আপ্র/৯/১০/২০২৬