ময়মনসিংহ নগরের বাঁশবাড়ি কলোনির দেয়ালে দেয়ালে এখন শোভা পাচ্ছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহারের গাছ। অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগে লাগানো এসব গাছের সুবাসে বদলে গেছে একসময় আবর্জনার দুর্গন্ধে ভরা সড়কের পরিবেশ। চার তরুণের উদ্যোগে গড়ে ওঠা এই ব্যতিক্রমী বাগান দেখতে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে নগরের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাঁশবাড়ি কলোনি পরিদর্শন করেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে বাঁশবাড়ি কলোনির একটি ছবি পাঠিয়েছিলেন। ছোট একটি সড়ককে স্থানীয় বাসিন্দারা যেভাবে সুন্দর করে তুলেছেন, তা দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। মানুষের বসবাসের জায়গা পরিষ্কার রাখা এবং সেখানে গাছ লাগিয়ে পরিবেশ উন্নত করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, স্থানীয় মানুষের মধ্যে এ ধরনের উদ্যোগের প্রতি আগ্রহ তৈরি করতে হবে। দেশের অন্যান্য শহরেও এই মডেল চালু করা যায় কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে। বিভিন্ন এলাকার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে উদ্যোগটি ছড়িয়ে দেওয়া গেলে ভালো ফল পাওয়া সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রীর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, সরকার পাঁচ কোটি গাছ লাগানোর কথা বললেও লক্ষ্যমাত্রা আরো বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এ বছর সাড়ে পাঁচ থেকে ছয় কোটি গাছ লাগানোর আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়ার উপযোগী ফলদ, বনজ, ঔষধি ও শোভাবর্ধক গাছ লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন সংসদ সদস্য আবু ওয়াহাব আকন্দ ওয়াহিদ ও মোহাম্মদ জাকির হোসেন, সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকুনোজ্জামান রোকন এবং বিভাগীয় বন কর্মকর্তা কাজী মুহাম্মদ নূরুল করিম প্রমুখ।
২০২৩ সালে ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশন বাঁশবাড়ি কলোনির ভাঙাচোরা সড়ক ও নালা সংস্কার করে। সেই সংস্কার করা সড়ক ও উন্নত পয়োনিষ্কাশনব্যবস্থাকে কাজে লাগিয়ে পরিবেশ বদলে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন চার তরুণ—মুরাদ হাসান কানন, মেহেদী হাসান মুহিত, সাইফুল ইসলাম ও উত্তম সরকার। তাঁরা বাসিন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করে দেয়ালে বাগান করার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। বাসিন্দারাও তাঁদের সমর্থন দেন। এরপর মাত্র তিন মাসে কলোনির প্রায় ৮০০ ফুট সড়কের দুই পাশের দেয়ালে গড়ে ওঠে বাগান।
অব্যবহৃত ঝুড়ি, বালতি ও মগে লাগানো হয়েছে নানা প্রজাতির ফুল ও পাতাবাহার। কোথাও অর্কিড, কোথাও সুগন্ধি ফুলের গাছ। রাতে হাসনাহেনার সুবাস ছড়িয়ে পড়ে এলাকায়। গাছের ফাঁকে লাগানো কাগজে লেখা রয়েছে, ‘এ গাছগুলো বিক্রির জন্য নহে’।
উদ্যোক্তা মুরাদ হাসান বলেন, ‘আমাদের ছোট একটি উদ্যোগ এলাকার পরিবেশ বদলে দিয়েছে। আজ মন্ত্রী এসে ঘুরে দেখলেন। এটি আমাদের জন্য আরও অনেক বেশি প্রেরণার।’
সানা/আপ্র/৯/১০/২০২৬