গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬

মেনু

বন্দর ইজারা নিয়ে গোপনীয়তা জনস্বার্থের পরিপন্থী: ফরহাদ মজহার

নিজেস্ব প্রতিবেদক

নিজেস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১১:৫৩ পিএম, ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | আপডেট: ০২:১৯ এএম ২০২৬
বন্দর ইজারা নিয়ে গোপনীয়তা জনস্বার্থের পরিপন্থী: ফরহাদ মজহার
ছবি

ছবি সংগৃহীত

কোনো নন-ডিসক্লোজার চুক্তির আড়ালে জনগণকে না জানিয়ে বন্দর ইজারা দেওয়াকে জনস্বার্থের পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও রাষ্ট্রচিন্তক ফরহাদ মজহার।

তিনি বলেছেন, চট্টগ্রাম বন্দর নিয়ে কোনো গোপনীয় চুক্তি হতে পারে না। বন্দরের বিষয়ে সব সিদ্ধান্ত জনগণকে জানিয়ে নিতে হবে। এ বন্দর শুধু একটি অর্থনৈতিক স্থাপনা নয়। এটি জনগণের সম্পদ ও সামরিক স্থাপনাও।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘চট্টগ্রাম বন্দর সুরক্ষা বনাম বন্দর অচলের রাজনীতি’ শীর্ষক এ মতবিনিময় সভা আয়োজন করে বন্দর সুরক্ষা কমিটি।

ফরহাদ মজহার বলেন, বন্দর ইস্যুকে শুধু অর্থনৈতিক দিক থেকে দেখলে চলবে না। এটি সরাসরি সামরিক প্রশ্ন। জনগণের সম্পদের বিষয়ে চুক্তির ভার আমলাদের ওপর ছেড়ে দেওয়া যায় না। অবশ্যই জনগণকে পরিষ্কারভাবে জানাতে হবে।

শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতির ফলে বন্দর অচল হওয়ার বিষয়টিকে বিদেশিদের সঙ্গে চুক্তির পেছনে যুক্তি হিসেবে ব্যবহারের আশঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, চুক্তি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের কারণে বন্দর অচল হয়েছে।

ফরহাদ মজহার বলেন, এবার শ্রমিকদের দোষী করেই চুক্তির পক্ষের যুক্তি দেওয়া হবে। এটি দ্বিমুখী তলোয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হবে। এখন দক্ষতা, অদক্ষতার প্রশ্ন সামনে আনা হয়েছে। আমাদের শ্রমিকদের দক্ষ করে তুলতে পারি না কেন আমরা? বন্দর পিছিয়ে রাখা হচ্ছে কেন?

গণসার্বভৌমত্বের প্রতি গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, পাঁচ আগস্টের পর জনগণের ক্ষমতা ছিল। আমরা সেটাকে আবার ফিরিয়ে দিয়েছি পুরাতন ব্যবস্থায়। এই শব্দের অর্থ বুঝতে না পারায় জনগণের ক্ষমতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এখন সরকার, সংসদ বা রাষ্ট্র চাইলেই জনগণের মতামত না নিয়ে বিদেশিদের কাছে ইজারা দিতে পারছে।

ফরহাদ মজাহার বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক, সামরিক ও ভূরাজনৈতিক গুরুত্ব বহন করে। বঙ্গোপসাগরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বন্দর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শ্রমিক আন্দোলন যৌক্তিক, কিন্তু বন্দর অচল হয়ে গেলে তা বিদেশি কোম্পানির কাছে বন্দর হস্তান্তরের যুক্তি হিসেবে ব্যবহার হতে পারে।

তিনি বলেন, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে স্বচ্ছ আলোচনার মাধ্যমে গণসার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব।

বন্দর সুরক্ষা কমিটির সদস্যসচিব মেজর (অব.) আহমেদ ফেরদৌসের সঞ্চালনায় সভায় লিখিত বক্তব্য দেন আরেক সমন্বয়ক ফিল্ম মেকার মোহাম্মদ রোমেল। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক জাতীয়তাবাদী শ্রমিকদল নেতা হুমায়ুন কবীর ও ইব্রাহিম খোকন, জুলাইযোদ্ধা তৌহিদুল ইসলাম ও আব্দুল্লাহ তুহিন।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় স্থাপনা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার ভার মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার প্রতিবাদে গত ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা ছয়দিন বন্দরে কর্মবিরতি ছিল।

এসি/আপ্র/০৭/০২/২০২৬

সংশ্লিষ্ট খবর

আমি অ্যাটর্নি জেনারেল, রাষ্ট্রের কল্যাণে কথা বলে যাবো: অ্যাটর্নি জেনারেল
২৯ মার্চ ২০২৬

আমি অ্যাটর্নি জেনারেল, রাষ্ট্রের কল্যাণে কথা বলে যাবো: অ্যাটর্নি জেনারেল

দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে ‘নির্মোহভাবে’ কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন নবনির্বাচিত অ্যাটর্নি...

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: চক্র খুঁজে বের করার নির্দেশ
২৯ মার্চ ২০২৬

ভূমধ্যসাগরে নৌকাডুবি: চক্র খুঁজে বের করার নির্দেশ

লিবিয়া থেকে অবৈধভাবে গ্রিসে যাওয়ার পথে ভূমধ্যসাগরে ভাসমান একটি নৌকায় থাকা কমপক্ষে ২২ জন অভিবাসন প্রত...

চার বছরের মধ্যে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করবে সরকার
২৯ মার্চ ২০২৬

চার বছরের মধ্যে ‘ইউনিভার্সাল ফ্যামিলি কার্ড’ ইস্যু করবে সরকার

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী, নারীদের ক্ষমতায়নের জন্য চালু হয়ে গেছে ‘ফ্যামিলি কার...

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

এবারের ঈদযাত্রাকে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি স্বস্তিদায়ক বলে দাবি করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। মন্ত্রীর এই দাবি ঠিক আছে বলে মনে করেন?

মোট ভোট: ০ | শেষ আপডেট: 8 ঘন্টা আগে