উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি গঠন করা হলেও সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় আরো একবার পেছালো।
বুধবার (১ এপ্রিল) ধার্য দিনে মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে না পারার ব্যাখ্যা দিয়েছেন। এর পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুল ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ৭ মে ধার্য করেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে প্রতিবেদন দাখিলের দিন ১২৫ বার পেছাল। এর আগে গেল ৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন না দেওয়ায় তদন্তকর্তাকে ব্যাখা দিতে নির্দেশ দেয় আদালত।
এদিন ব্যাখা দিতে সশরীরে আদালতে হাজির হন তদন্তকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আজিজুল হক।
প্রসিকিউশনের এসআই রাসেল বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আদালতকে দুই পাতার লিখিত ব্যাখা দিয়েছে। এ মামলা নিয়ে যে টাস্কফোর্স গঠন হয়েছে, সেই টাস্কফোর্সে তদন্ত কর্মকর্তা ছাড়াও আরো সদস্য আছেন। সে কারণে প্রতিবেদন দিতে একটু বিলম্ব হচ্ছে, আগামী ধার্য তারিখে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা আদালতকে বলেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনিকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।
এ মামলার আসামিরা হলেন-রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুণ, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান। এদের মধ্যে তানভীর জামিনে রয়েছে। পলাশ রুদ্র পাল জামিনে গিয়ে পলাতক হয়েছেন। অপর আসামিরা কারাগারে রয়েছেন।
প্রথমে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন ওই থানার এক উপ-পরিদর্শক (এসআই)। চারদিন পর চাঞ্চল্যকর এই হত্যা মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়। দুই মাসেরও বেশি সময় তদন্ত করে রহস্য উদঘাটনে ব্যর্থ হয় ডিবি। পরে হাইকোর্টের নির্দেশে একই বছরের ১৮ এপ্রিল হত্যা মামলাটির তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে র্যাবকে বাদ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করে এ তদন্ত কাজ শেষ করতে ছয় মাস বেঁধে দেয় হাই কোর্ট।
এর পরে ১৭ অক্টোবর হাই কোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন নিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে চার সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি কাজ করছে।
সানা/ডিসি/আপ্র/১/৪/২০২৬