গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে সংসদ ও রাজপথে একযোগে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, এই রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলনে কোনো বিরতি দেওয়া হবে না।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) বিকালে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে গণসমাবেশ’-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সমাবেশে বিভিন্ন বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন।
শফিকুর রহমান বলেন, গণভোটের রায় অমান্য করা হলে এর পরিণতি ভালো হবে না। তিনি অতীতের উদাহরণ টেনে বলেন, জনগণের রায় অস্বীকারের ফলেই একাত্তরে সংঘাত সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতেও যারা রায় অস্বীকার করছেন, তাদের সেই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। রায় মেনে নিলে এ দাবি নিয়ে আর আন্দোলন করার প্রয়োজন হবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের বক্তব্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, প্রয়োজনে সংসদ ও রাজপথ একাকার হয়ে যাবে। সে পরিস্থিতি তৈরি হলে কোনো শক্তিই তা প্রতিহত করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের সমালোচনা করে শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বিভিন্ন বিভাজনমূলক বক্তব্য দিয়ে জাতিকে বিভক্ত করা হচ্ছে। নির্বাচনের আগে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বর্তমানে তার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি আরো বলেন, দেশের মালিক জনগণ এবং কোনো গোষ্ঠীর একক আধিপত্য প্রতিষ্ঠার সুযোগ নেই। দেশের স্বাধীনতা ও জনগণের অধিকার রক্ষায় যারা আত্মত্যাগ করেছেন, তাদের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। এতে আরো বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অলি আহমদ এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।
সভাপতির বক্তব্যে মামুনুল হক গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও চলমান সংকট নিরসনের দাবিতে তিন মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেন। কর্মসূচির মধ্যে মে, জুন ও জুলাই মাসে জেলায় জেলায় নাগরিক সমাবেশ এবং আগামী ৫ আগস্ট ঢাকায় গণমিছিল আয়োজনের কথা জানানো হয়।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬