জাপানের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জাক্সা মহাকাশে পাঠিয়েছে এমন এক বিশেষ স্যাটেলাইট, যা কাগজ ভাঁজ করার ঐতিহ্যবাহী অরিগামি পদ্ধতিতে ভাঁজ অবস্থায় উৎক্ষেপণ করা হয় এবং কক্ষপথে পৌঁছে নিজ আকারের তুলনায় প্রায় ২৫ গুণ বড় হয়ে খুলে যায়। এই প্রযুক্তিকে মহাকাশে হালকা, ছোট ও সহজে বহনযোগ্য যন্ত্র তৈরির ক্ষেত্রে বড় অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
মাত্র ১০ সেন্টিমিটার আকারের একটি কিউবস্যাট মহাকাশে গিয়ে খুলে প্রায় ২ দশমিক ৫ মিটার আকার ধারণ করতে সক্ষম হয়। এটি জাক্সার ‘কাকুশিন রাইজিং’ মিশনের অংশ, যার লক্ষ্য বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও স্টার্টআপের তৈরি আধুনিক মহাকাশ প্রযুক্তি পরীক্ষা করা।
গত বৃহস্পতিবার নিউ জিল্যান্ডের নর্থ আইল্যান্ড থেকে রকেট ল্যাব এর রকেটে করে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণ করা হয়। উৎক্ষেপণের প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে এটি পৃথিবীর নিম্ন কক্ষপথে পৌঁছে যায়।
জাক্সা জানিয়েছে, স্যাটেলাইটটির অ্যান্টেনা বিশেষ অরিগামি কৌশলে ভাঁজ করা হয়েছে, যাতে এটি উৎক্ষেপণের সময় ছোট অবস্থায় থাকে এবং মহাকাশে পৌঁছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে খুলে বড় আকার ধারণ করতে পারে। এ ধরনের নকশাকে ভবিষ্যতের মহাকাশ প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত হালকা ও কার্যকর সমাধান হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এই মিশনে আরো ছিল শিক্ষার্থীদের তৈরি ক্ষুদ্র স্যাটেলাইট, সমুদ্র পর্যবেক্ষণ যন্ত্র এবং ক্যামেরা প্রযুক্তি পরীক্ষার জন্য একটি ডেমো স্যাটেলাইট।
গবেষকরা জানিয়েছেন, অরিগামি ভিত্তিক ভাঁজ প্রযুক্তি বহু বছর ধরে মহাকাশে ব্যবহারযোগ্য কাঠামো তৈরিতে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ‘মিউরা ফোল্ড’ নামের একটি ভাঁজ পদ্ধতি ১৯৭০ সাল থেকে ব্যবহারিক কাজে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নতুন অরিগামি স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ভবিষ্যতে মহাকাশ অভিযানে বড় আকারের যন্ত্রপাতি কম খরচে ও নিরাপদভাবে পাঠানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সানা/আপ্র/২৪/৪/২০২৬