গণমানুষের প্রত্যাশা পূরণে অঙ্গীকারবদ্ধ সৃজনশীল দৈনিক
বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬

মেনু

বিলুপ্তির পথে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী গিগজ মুড়ি

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রত্যাশা ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:১৪ পিএম, ১৩ মে ২০২৬ | আপডেট: ১৬:০৩ এএম ২০২৬
বিলুপ্তির পথে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী গিগজ মুড়ি
ছবি

ছবি আজকের প্রত্যাশা

তারেক মাহমুদ, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি: লক্ষ্মীপুরে ঐতিহ্যবাহী গিগজ ধানের হাতে ভাজা মুড়ি শতবর্ষের শিল্প হিসেবে পরিচিত হলেও নানা সংকটে এখন তা বিলুপ্তির পথে। নারিকেল, সুপারি ও ইলিশের জন্য খ্যাত এ জেলায় গিগজ মুড়ি দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় ঐতিহ্য ও অর্থনীতির অংশ হিসেবে টিকে থাকলেও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, কাঁচামালের সংকট ও আধুনিক মেশিনে ভাজা মুড়ির প্রতিযোগিতায় ধীরে ধীরে হারিয়ে যেতে বসেছে এ শিল্প।

জানা গেছে, প্রতি বছর জেলায় প্রায় ৫০০ টন হাতে ভাজা গিগজ মুড়ি উৎপাদিত হয়। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এ মুড়ি ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানিও হয় এ পণ্য। উদ্যোক্তাদের হিসাবে, এ শিল্পকে ঘিরে বছরে প্রায় ৮ কোটি টাকার লেনদেন হয়।

একসময় জেলায় এক হাজার টনেরও বেশি মুড়ি উৎপাদিত হতো, যা এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। বর্তমানে প্রতি কেজি মুড়ি উৎপাদক পর্যায়ে ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে তা প্রায় ১৬০ টাকায় বিক্রি হয়। তবে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ ক্রমশ কমে আসছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা।

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, কমলনগর, রামগতি ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় শতাধিক পরিবার এখনও এ পেশার সঙ্গে যুক্ত। বিশেষ করে সমসেরাবাদ, উত্তর মজুপুর, বেঁড়িরমাথা, করুনানগরসহ বিভিন্ন গ্রামে বহু পরিবার পূর্বপুরুষের ঐতিহ্য ধরে রাখতে কষ্টসাধ্য এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে।

সমসেরাবাদ এলাকার প্রবীণ উদ্যোক্তা বাবুল দাস প্রায় ৩০ বছর ধরে এ পেশায় যুক্ত। তিনি বলেন, এটি কেবল জীবিকা নয়, পারিবারিক ঐতিহ্যও। কিন্তু ধানের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় ও মেশিনে ভাজা মুড়ির আধিপত্যে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারি সহায়তা ছাড়া এ শিল্প টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, কম দামের মেশিনে ভাজা মুড়ির কারণে হাতে ভাজা গিগজ মুড়ির বাজার সংকুচিত হচ্ছে। তবে স্বাদ ও মানের কারণে এখনও দেশ-বিদেশে এর চাহিদা রয়েছে। প্রবাসীরা বিদেশে যাওয়ার সময়ও এই মুড়ি সঙ্গে নিয়ে যান বলে জানা যায়।

বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের লক্ষ্মীপুর কার্যালয়ের উপব্যবস্থাপক মো. ফজলুল করিম বলেন, ক্ষুদ্র শিল্প উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। উদ্যোক্তারা প্রশিক্ষণ ও স্বল্প সুদে ঋণ সুবিধার আওতায় আসতে পারবেন।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, গিগজ ধানের চাষ পুনরুজ্জীবন, সহজ ঋণ সুবিধা ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে লক্ষ্মীপুরের ঐতিহ্যবাহী হাতে ভাজা মুড়ির শিল্প ভবিষ্যতে ইতিহাসে পরিণত হতে পারে।
সানা/আপ্র/১৩/৫/২০২৬

 

 

সংশ্লিষ্ট খবর

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬

বিশ্বের অর্ধেক দরিদ্রের চেয়েও বেশি কার্বন ছাড়েন ধনীরা

বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ১ শতাংশ মানুষের সম্মিলিত কার্বন নিঃসরণ বিশ্বের দরিদ্রতম ৩৫০ কোটি মানুষের মোট নিঃস...

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন
২৫ অক্টোবর ২০২৬

গার্ড অব অনার নিয়ে উত্তেজনা, গভীর রাতে মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফন

সাঈদীর বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বিয়ের দিন বরের জানাজা, শোকে স্তব্ধ দুই পরিবার

হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মৃত্যু

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম
১৬ অক্টোবর ২০২৬

বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকে ১২২ দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৮৪তম

শিশুদের তীব্র অপুষ্টি বেড়েছে, আট বছরে ক্ষুধা কমেছে মাত্র ৪ শতাংশ

মন্তব্য বৈশিষ্ট্য বন্ধ রয়েছে

বর্তমানে মন্তব্য বৈশিষ্ট্য নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। অনুগ্রহ করে পরে আবার চেষ্টা করুন।

অনলাইন জরিপ

পুলিশকে শক্তিশালী না করলে দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দ্যে চলা যাবে না

পুলিশকে শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির, পিপিএম বলেছেন, “আপনারা সাংবাদিক ভাইয়েরা পুলিশকে ব্যবহার করেন। পুলিশকে শক্তিশালী না করলে আমরা সমাজে দিনে-রাতে কেউই স্বাচ্ছন্দ্যে চলাফেরা করতে পারব না।” রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বাগেরহাট পুলিশ লাইনে জেলা পুলিশের আয়োজনে কমিউনিটি পুলিশিং সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রিয় পাঠক, আপনি কি মনে করেন আইজিপি সঠিক বলেছেন?

মোট ভোট: ১ | শেষ আপডেট: 3 দিন আগে