বিশ্বকাপ অভিষেকেই শক্তিশালী পর্তুগালকে রুখে দিয়ে বড় চমক উপহার দিল ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো। ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার ঐতিহাসিক দিনে আফ্রিকার দলটি ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় ফল তুলে নেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে বুধবার (১৭ জুন) রাতে ‘কে’ গ্রুপের ম্যাচে শুরুতেই এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। তবে পিছিয়ে পড়েও দারুণ আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলে সমতায় ফেরে ডিআর কঙ্গো। শেষ পর্যন্ত পয়েন্ট ভাগাভাগি করেই মাঠ ছাড়ে দুই দল।
ম্যাচের শুরুটা ছিল পর্তুগালের দখলে। ষষ্ঠ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে পেদ্রো নেতোর মাপা ক্রসে সবার ওপরে উঠে শক্তিশালী হেডে গোল করেন তরুণ মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস। গোলের পর অনেকেই ধারণা করেছিলেন, র্যাঙ্কিংয়ে অনেক পিছিয়ে থাকা কঙ্গো হয়তো বড় ব্যবধানে হারবে। কিন্তু বাস্তবে ঘটেছে উল্টোটা।
গোল হজমের পর ঘাবড়ে না গিয়ে ধীরে ধীরে ম্যাচে ফেরে আফ্রিকার দলটি। নিউক্যাসল ফরোয়ার্ড ইয়োয়ান উইসা, অ্যারন ওয়ান-বিসাকা ও তাদের সতীর্থরা পর্তুগালের রক্ষণে চাপ তৈরি করতে থাকেন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ছোট করে নেওয়া কর্নার থেকে তৈরি আক্রমণে বক্সে পাওয়া ক্রসে হেডে গোল করে সমতা ফেরান উইসা।
বিশ্বকাপের মঞ্চে এটিই ছিল ডিআর কঙ্গোর প্রথম গোল। সেই গোলেই তারা বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের প্রথম পয়েন্ট অর্জন করে। এর আগে ১৯৭৪ সালে জায়ার নামে বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া দলটি তিন ম্যাচে কোনো গোল করতে পারেনি এবং ১৪ গোল হজম করেছিল।
পর্তুগাল পুরো ম্যাচে প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও আক্রমণে ছিল পরিকল্পনার ঘাটতি। ছোট ছোট পাসে আক্রমণ গড়ে বারবার ছন্দ হারিয়েছে তারা। প্রতিপক্ষের সংগঠিত রক্ষণ যেমন প্রশংসার দাবিদার, তেমনি সহজে বল হারানোর দায়ও ছিল পর্তুগিজদের।
বিশেষ দিনেও আলো ছড়াতে পারেননি রোনালদো। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে লিওনেল মেসি প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়ার পর দিনের দ্বিতীয় ভাগে একই রেকর্ডে ভাগ বসান পর্তুগিজ অধিনায়ক। পাশাপাশি ৪১ বছর ১৩২ দিন বয়সে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি বয়সী আউটফিল্ড খেলোয়াড় হিসেবে শুরুর একাদশে নামার রেকর্ডও গড়েন তিনি।
তবে মাঠে তার পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। পুরো ম্যাচে মাত্র ২৫ বার বল স্পর্শ করেন রোনালদো, যা অন্তত ৮০ মিনিট খেলা বিশ্বকাপ ম্যাচগুলোর মধ্যে তার সর্বনিম্ন। প্রথমার্ধে তার বল স্পর্শ ছিল মাত্র ১৬ বার। প্রতিপক্ষের বক্সে বল পান মাত্র একবার।
দ্বিতীয়ার্ধে কয়েকটি সুযোগ এলেও কাজে লাগাতে পারেননি তিনি। দ্বিতীয় পানি পানের বিরতির আগে ফ্রান্সিসকো কনসেইকাওয়ের পাস থেকে নেওয়া তার ফ্লিক লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। পরে ছয় গজ বক্সের বাইরে থেকেও শট নষ্ট করেন। ম্যাচজুড়ে তার জোরালো হেড কিংবা অ্যাক্রোবেটিক প্রচেষ্টাগুলোও সফল হয়নি।
এর ফলে বড় টুর্নামেন্টে—বিশ্বকাপ ও ইউরো মিলিয়ে—পর্তুগালের হয়ে টানা ১০ ম্যাচে গোলশূন্য থাকলেন পাঁচবারের বর্ষসেরা এই ফুটবলার।
দ্বিতীয়ার্ধের ৫৫তম মিনিটে জোয়াও কান্সেলো বল জালে পাঠালেও পরিষ্কার অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয়। শেষ দিকে জয়সূচক গোলের খোঁজে আরও কয়েকটি আক্রমণ চালায় সাবেক ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। কিন্তু প্রতিপক্ষের গোলরক্ষককে তেমন পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি।
পুরো ম্যাচে পর্তুগালের সাতটি শটের মাত্র একটি লক্ষ্যে ছিল। অন্যদিকে কঙ্গো আটটি শট নিয়ে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়।
বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে দলকে জেতানো লিওনেল মেসির পর রোনালদোর দিকেও ছিল সমর্থকদের বাড়তি নজর। তবে যেখানে মেসি নিজের বিশেষ দিনটি রাঙিয়েছেন দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে, সেখানে রোনালদোর দিনটি কেটেছে হতাশায়। আর সেই সুযোগেই ইতিহাস গড়ে বিশ্বকাপের অন্যতম চমক হয়ে উঠেছে ডিআর কঙ্গো।
সানা/আপ্র/১৮/৬/২০২৬