অনুকূল আবহাওয়ায় নওগাঁয় এবার পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরু থেকেই বাজারে মিলছে ভালো দাম। গত বছরের তুলনায় প্রতি মণ পাটের দাম বেড়েছে অন্তত ৬০০ টাকা। প্রায় এক যুগ পর পাটের এমন দাম পাওয়ায় খুশি জেলার চাষিরা। সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় গত এক সপ্তাহেই মণপ্রতি দাম বেড়েছে প্রায় ৫০০ টাকা।
জেলার অন্যতম বৃহৎ পাটের বাজার মান্দার সতীহাটে গিয়ে দেখা যায়, ভোর থেকেই বিভিন্ন যানবাহনে দেশি, তোষা ও মেস্তা জাতের পাট নিয়ে আসছেন কৃষকেরা। মানভেদে প্রতি মণ পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায়। বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি থাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে দরদাম করে পাট বিক্রি করছেন চাষিরা।
আত্রাই উপজেলার বান্দাইখাড়া ইউনিয়নের চকশিমলা গ্রাম থেকে সতীহাটে পাট বিক্রি করতে আসা ওমর ফারুক জানান, এবার অনুকূল আবহাওয়ায় তার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে। তিনি ১০ বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছিলেন। পাট পানিতে জাগ দেওয়ার আগেই ব্যবসায়ীরা প্রতি মণ ৩ হাজার ৮০০ টাকা দরে তার ২০ মণ পাট অগ্রিম কেনার জন্য বুকিং দিয়েছিলেন।
ওমর ফারুক বলেন, ‘অবশিষ্ট পাট এখন চার হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করলাম। গত বছর যে দামে বিক্রি করেছি, এবার তার চেয়ে মণপ্রতি ৭০০ টাকা বেশি পাচ্ছি।’
হাটে পাট বিক্রি করতে আসা আরেক কৃষক আহসান হাবীব জানান, প্রতি বিঘা জমিতে তার খরচ হয়েছে ১৮ হাজার টাকা। ফলন পেয়েছেন বিঘাপ্রতি ১২ মণ। পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে এবার সেচের খরচও কমেছে। জলাশয় ও ডোবায় পানি থাকায় পাট জাগ দেওয়া এবং আঁশ ছাড়ানোর কাজ সহজ হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘তিন হাজার ৯৫০ টাকা মণ দরে ২৭ মণ পাট বিক্রি করলাম। গত এক যুগে এটাই সর্বোচ্চ পাটের দর।’
তিলকপুর ইউনিয়নের তিলকপুর গ্রামের পাটচাষি নোমান আহম্মেদ বলেন, পাট কাটার পর পানিতে জাগ দেওয়া, আঁশ ছাড়ানো, ধোয়া ও শুকানোর কাজ বেশ শ্রমসাধ্য। তবে এবার পর্যাপ্ত বৃষ্টির কারণে জলাশয়গুলোতে পানি থাকায় পাট জাগ দিতে বাড়তি বিড়ম্বনায় পড়তে হয়নি।
তার মতে, পর্যাপ্ত পানিতে জাগ দেওয়ার কারণে পাটের আঁশের রংও ভালো হয়েছে। ভালো রং ও মানের কারণে বাজারে পাটের চাহিদা রয়েছে।
নোমান আহম্মেদ আশা করছেন, কিছুদিন পাট ঘরে রেখে পরে বিক্রি করতে পারলে প্রতি মণ পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম পাওয়া যেতে পারে।
সতীহাটের পাট ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার জানান, গত বছরের তুলনায় এবার পাটের রং ও মান ভালো। বাজারে চাহিদাও রয়েছে। ফলে ব্যবসায়ীদের বেশি দামে পাট কিনতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, গত সপ্তাহের তুলনায় এবার প্রতি মণ পাট প্রায় ৬০০ টাকা বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে মানভেদে প্রতি মণ পাট তিন হাজার ৬০০ থেকে চার হাজার ৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। বাজারে সরবরাহ কম থাকলে দাম আরও বাড়তে পারে।
নওগাঁ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর রহমান জানান, চলতি বছর জেলায় তিন হাজার ১৭০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। এসব জমি থেকে আট হাজার ৯১০ মেট্রিক টন পাট উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অনুকূল আবহাওয়ার কারণে এবার কৃষকেরা বাম্পার ফলন পাচ্ছেন। ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে সন্তোষজনক দাম পাওয়ায় পাটচাষিরা লাভবান হচ্ছেন।
পাটের বহুমুখী ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দিয়ে মনজুর রহমান বলেন, পাট শুধু আঁশ হিসেবেই নয়, পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন পণ্য তৈরিতেও ব্যবহার করা সম্ভব। দেশে পাট ও পাটজাত পণ্যের ব্যবহার বাড়ানো গেলে কৃষক পর্যায়ে পাটের চাহিদা ও দাম দুটিই বাড়বে।
এসি/আপ্র/২৭/৯/২০২৬